জিরানীতে জমি জবর দখলের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জিরানী বাজার এলাকায় এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আফাজ উদ্দিন বেপারী গংয়ের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি জমির কিছু অংশ দখলে নিয়ে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মল্লিক ওই ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

আনোয়ার হোসেন মল্লিক জানান, কাশিমপুর থানাধীন পশ্চিম পানিশাইল মৌজাস্থিত সিএস ০৭, এসএ ১৮নং খতিয়ান এবং সিএস ও এসএ ৮নং দাগে মোট জমির পরিমাণ ১৭৮ শতাংশ। ওই জমির মধ্যে জনৈক গুতু খাঁ ছিলেন ৮৯ শতাংশের মালিক এবং ছহিম খাঁ ছিলেন ৮৯ শতাংশের মালিক। গুতু খাঁর ৮৯ শতাংশ জমি পরে এসএ ১৯নং খতিয়ানে এবং এসএ ৮নং দাগে আ. সামাদের নামে রেকর্ড হয়। ওই সম্পত্তি ১৯৫৯ সালে কেরু বেপারী নামে এক ব্যক্তি আব্দুস সামাদের কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে সিএস ও এসএ ৮নং দাগে ৮৯ শতাংশ জমির মালিক হন। পরে কালিয়াকৈর-নবীনগর-নয়ারহাট সড়কের নির্মাণ কাজের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই অধিগ্রহণে কেরু বেপারীর মালিকানাধীন ৮৯ শতাংশ জমি থেকে ৩০ শতাংশ জমির একোয়ারকৃত ক্ষতিপূরণ বিল ৭১-৬৪-৬৫নং এলএ কেস মূলে ঢাকা কালেক্টরি অফিস থেকে ৯০০ টাকা উত্তোলন করেন।

এর দুই বছর পর আরএস রেকর্ড অনুষ্ঠিত হলে কেরু বেপারী সিএস ও এসএ ৮নং দাগে সর্বদক্ষিণের অংশে আরএস ৮নং খতিয়ানে এবং আরএস ৩৪নং দাগে প্লট কেটে ৮৩ শতাংশ জমি রেকর্ড করান। সেখানে ভুলবশত ২৪ শতাংশ জমি বেশি রেকর্ডভুক্ত হয়। রেকর্ডভুক্ত হওয়ার ১৫ বছর পর সড়ক ও জনপথের অধিগ্রহণকৃত ৩০ শতাংশ জমির বিল ফের উত্তোলনের জন্য কেরু বেপারীর ওয়ারিশরা যথাক্রমে সৈয়দ আলী, রুনু বেপারী, মোগর আলী, আফাজ উদ্দিন বেপারী একটি আরপিট্রিশন মামলা করেন। এর ১০ বছর পর আদালতের রায় ডিক্রি করে ১৯৯৩ সালে ০২৬০৮৯৬নং এলএ চেক মূলে আদালতের মাধ্যমে ৯৯৭১.২৫ টাকা বিল উত্তোলন করেন। পরপর দুটি বিল ওঠানোর পরও ফের ওই জমি তাদের দাবি করে জবর দখলের পাঁয়তারা করছে বলেও জানান ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মল্লিক।

এদিকে গাজীপুর সাব-জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মোকদ্দমা করলে ওই মোকদ্দমায় আমার পক্ষে ২০০৫ সালে রায়ের পর ২০০৫ সালে ডিক্রি জারি এবং সবশেষে ২০০৬ সালে কমিশনের মাধ্যমে জমি আমাকে বুঝিয়ে দেন।

এর পরও আফাজ উদ্দিন গংরা রায়, ডিক্রি ও কমিশনের বিরুদ্ধে একটি মিস মোকদ্দমা করেন। পরে মিস মোকদ্দমাটি মূল কেসে রূপান্তর হয়ে প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত গাজীপুরে চলমান রয়েছে। কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আকবর আলী জানান, ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষকে ওই জমিতে না যাওয়ার জন্য নিষেধ করা হয়েছে।