নিজের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণে বাধা

নেপথ্যে আ'লীগ নেতা

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

নিজের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণে বাধা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভুল্লী কুমারপুর গ্রামে প্রাচীর নির্মাণ করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে- সমকাল

ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী কুমারপুর গ্রামে বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার জায়গায় স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই জমির চারপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় জমিতে ঢুকতে পারছেন না তিনি। এর নেপথ্যে জেলা পরিষদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা রওশনুল হক তুষার তার বাবার নামে নির্মিত মসজিদের কমিটিকে দিয়ে কলকাঠি নাড়ছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে সাড়ে ৩২ শতক জমি ক্রয় করেন অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কাসির উদ্দীন। ওই জমির পাশে একটি মক্তব ছিল। চার বছর আগে ওই মক্তবের স্থানে আজিজনগর নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন স্থানীয়রা। এর সঙ্গে নির্মাণ করা হয় একটি অজুখানা, যা অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কাসির উদ্দীনের জমির ওপর পড়ে। এ ছাড়া মসজিদের বাইরের ছাদের অংশও পড়েছে তার জায়গায়।

জমির মালিককে না জানিয়ে অজুখানা নির্মাণ করায় আপত্তি তোলেন কাসির উদ্দীন। এতে ক্ষিপ্ত হন স্থানীয় মুসল্লিরা। এরই মধ্যে ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণের জন্য ইট নিয়ে যান কাসির উদ্দীন। কিন্তু মসজিদ কমিটি গত ৩ সেপ্টেম্বর অজুখানা ভেঙে ওই জমিতে প্রবেশ করার মুখে প্রাচীর নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেন ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। উপরন্তু তার নিজের জমির চারপাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জমিতে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না স্থানীয়রা। এলাকার মানুষকে এমনভাবে ফুঁসিয়ে তোলা হয়েছে, যেন ওই অরসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার জমিতে ঢুকতে না পারেন। জেলা পরিষদ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রওশনুল হক তুষার এর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন বলে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিষু মোহাম্মদ জানান, আজিজনগর জামে মসজিদের জায়গা কম থাকায় অজান্তে অজুখানা ও পায়খানা কাসির উদ্দীনের জায়গায় স্থাপন করা হয়। পরে কাসির উদ্দীন তার জায়গায় মসজিদের স্থাপনা দেখে তা ব্যবহারে নিষেধ করেন। এ ছাড়া কাসির উদ্দীন ছাদ ও অজুখানা ভেঙে নিতে বললে তা ভেঙে ফেলা হয়।

বিষু মোহাম্মদ আরও বলেন, এই মসজিদ বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য রওশনুল হক তুষারের বাবা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হকের নামে করা হয়েছে। রওশনুল এ মসজিদ নির্মাণে সব ধরনের সহায়তা করেছেন। তাই তাকে ও এলাকাবাসীর মতামত ছাড়া ওই জমির সমাধান কেউ দিতে পারবেন না।

কাসির উদ্দীন বলেন, আমাকে না জানিয়ে মসজিদের স্থাপনা করা হয়েছে- এ কথা বলায় এলাকার মুসল্লিদের আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া আমি তাদের অজুখানা ও ছাদ ভাঙতে বলিনি। আমার স্থাপনা নির্মাণের কথা শুনে তারা আমাকে জমিতে প্রবেশ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তার জমি দখল করতে একটি চক্র পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এ বিষয়টির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য রওশনুল হক তুষার বলেন, ওই অরসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় মুসল্লিরা এ কাজ করেছে। এ বিষয়টির সমাধান তারাই দিতে পারবেন বলে দায় এড়িয়ে যান তিনি।