জীর্ণ বিদ্যালয়টি এখন পরিপাটি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মোহাম্মদ আলী, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)

হাটহাজারী পৌর এলাকায় পাহাড়-ঘেঁষা পশ্চিম দেওয়ান নগরে সন্দ্বীপপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ওয়ার্ল্ডভিশনের সহযোগিতায় ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এ স্কুল সংলগ্ন এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের বসবাস। এসব পরিবারের লোকজন কেউ দিনমজুর, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, বর্গাচাষি, পোশাককর্মী, আবার কেউ বাবুর্চির কাজও করেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সেখানে না গিয়ে আর্থিকভাবে অসচ্ছল এসব পরিবারের শিশুরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত। তবে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ার্ল্ডভিশন অর্থায়ন বন্ধ করে স্কুল পরিচালনা থেকে সরে যায়। এরপর থেকে ক্রমাগত জীর্ণ থেকে জীর্ণতর হয়ে প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে ওঠে বিদ্যালয়টি। শিক্ষকদের বেতন প্রদান ও বিদ্যালয় মেরামত করার কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় একসময় ৪৫০-এর অধিক শিক্ষার্থী কমতে কমতে মাত্র ৭৫ জনে এসে ঠেকে। অনেক শিশু স্কুলে না গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পাহাড়ে কাজ করত। আবার অনেকেই ঘুরে বেড়াত। এসব বিষয়ে অবগত হয়ে হাটহাজারীর ইউএনও রুহুল আমিন চলতি বছরের শুরুতেই বিদ্যালয়টি পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ইউএনওর উদ্যোগ এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আট লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের দৃশ্য এখন পাল্টে গেছে।

সরেজমিন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জীর্ণশীর্ণ পুরো বিদ্যালয়টি ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। তিনটি শ্রেণিকক্ষে দেওয়া হয়েছে নতুন বেঞ্চ, বৈদ্যুতিক পাখা ও ব্ল্যাকবোর্ড। শিক্ষকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথক কক্ষ। নির্মাণ করা হয়েছে টয়লেট। বিদ্যালয়ের চারপাশে দেওয়া হয়েছে টিনের বেড়া। খেলাধুলার জন্য মাঠটি উপযোগী করে তোলা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক হাছিনা খানম জানান, ২০০৭ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ের দিকে কেউ তাকায়নি। বিনা বেতনে কিছু তরুণদের নিয়ে স্কুলটি চালিয়ে আসছি। শিক্ষার্থী ও আমরা স্কুলের পাশের বাড়ির টয়লেট ব্যবহার করতাম, সামান্য বৃষ্টিতে টিন দিয়ে পানি পড়ত। আজ হাটহাজারী ইউএনও স্যারের উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় স্কুলটির সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন শ্রেণিকক্ষ, পাকা ওয়াশরুম, সুপেয় পানির টিউবওয়েল, টিচার্স রুম, খেলাধুলার মাঠ ও বৈদ্যুতিক পাকা সবকিছু হয়েছে।

অভিভাবক ওবাইদুল হক জানান, এখন স্কুলটি পরিপাটি হওয়ায় দূরবর্তী স্কুল থেকে আমার ছেলেকে প্রথম ও মেয়েকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছি।

ইউএনও রুহুল আমিন জানান, এ বছরের প্রথম দিকে জানতে পারি জরাজীর্ণ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা। আট লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে এই স্কুলকে জীর্ণদশা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য বিদ্যালয়টির না থাকলেও এ মাস থেকে উপজেলা প্রশাসন থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।