আড়াইহাজার

ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন মিষ্টি দোকানিরা

বেশি ওজনের খালি প্যাকেট পুড়িয়ে ফেলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সফুরউদ্দিন প্রভাত আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন মিষ্টি দোকানিরা। বেশি ওজনের প্যাকেটে মিষ্টি বিক্রি করে গ্রাহকদের ঠকাচ্ছেন তারা। এতে কম পরিমাণে মিষ্টি পাচ্ছেন গ্রাহকরা। সন্দেহবশত এ নিয়ে কোনো গ্রাহক কিছু বললে ঝগড়া বাধিয়ে দেন দোকানিরা। বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়ে গত শুক্রবার অভিযান চালিয়ে কয়েকটি মিষ্টি দোকানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জানা যায়, আড়াইহাজার উপজেলার ইদবারদী বাসস্ট্যান্ডের নয়ন স্টোর নামে একটি মিষ্টির দোকান থেকে সম্প্রতি পাঁচ কেজি মিষ্টি ক্রয় করেন শহীদুল ইসলাম শামীম নামে এক গ্রাহক। মিষ্টির সঙ্গে দেওয়া বাক্সটির ওজন একটু বেশি মনে হওয়ায় প্যাকেটটি বাদ দিয়ে মিষ্টিগুলো পরিমাপ করান। এতে দেখা যায়, এক কেজিতে প্রায় ২৫০ গ্রাম মিষ্টি কম। সেই হিসাবে মিষ্টির বাক্সটির দাম পড়েছে ৫০ টাকা। বিষয়টি নিয়ে দোকানির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। তবে কোনো সমাধান মেলেনি। একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন মারুয়াদী এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন।

তিনি বলেন, বাজার থেকে সাধারণ মানের এক কেজি মিষ্টি কিনলে ১৬ থেকে ১৮টি মিষ্টি পাওয়া যায়। তবে ইদবারদী বাসস্ট্যান্ডের ইসরাফিল সুইটমিট থেকে এক কেজি মিষ্টি কিনে বাড়িতে গিয়ে দেখি ১২টি মিষ্টি রয়েছে। সন্দেহবশত মিষ্টির প্যাকেট হাতে নিয়ে দেখি প্যাকেটের ওজন ৩০০ গ্রামের ওপরে। শুধু ইদবারদী বাসস্ট্যান্ডে নয়, আড়াইহাজারের অধিকাংশ মিষ্টির দোকানে এভাবে ঠকছেন ক্রেতারা।

আড়াইহাজারের অনেক মিষ্টির দোকানি নিজেরা অর্ডার দিয়ে বেশি ওজনের প্যাকেট বানিয়ে নিচ্ছেন। একটি প্যাকেটে যেখানে খরচ হচ্ছে ছয় থেকে সাত টাকা, সেখানে তা বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। গ্রাহক ঠকাতে বিক্রেতারা যতরকম ফাঁদ তৈরি করেন, তার মধ্যে একটি এই মোড়কের অতিরিক্ত ওজন। ব্রাহ্মন্দী এলাকার একটি প্যাকেট তৈরি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শ্রমিক জানান, ২৫০ গ্রাম পরিমাণ মিষ্টির প্যাকেটের ওজন ৪০-৫০ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম পরিমাণ মিষ্টির প্যাকেটের ওজন ৭০-৮০ গ্রাম, এক কেজি পরিমাণ মিষ্টির প্যাকেটের ওজন ২০০-২৪০ গ্রাম এবং দুই কেজি পরিমাণ মিষ্টির প্যাকেটের ওজন ২৫০-৩০০ গ্রাম।

এদিকে প্রতারণার শিকার কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ পেয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আড়াইহাজার উপজেলার ইদবারদী বাসস্ট্যান্ডে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জল হোসেন জানান, নয়ন স্টোর, ইসরাফিল সুইটমিট ও মনির সুইটমিটে মিষ্টি দেওয়ার জন্য রাখা খালি প্যাকেটের ওজন পরিমাপ করে দেখা যায়, একটি খালি প্যাকেট ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম। এই প্যাকেটে মিষ্টি নেওয়ার অর্থ, এক কেজি মিষ্টি কিনে ক্রেতা পাবেন ৭৫০ গ্রাম। তিন মিষ্টির দোকান মালিককে পাঁচ হাজার টাকা করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর দোকানে থাকা খালি প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত ওজনের প্যাকেট পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির।