যন্ত্রাংশের অভাবে অকেজো ২০ লাখ টাকার শয্যা

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আহমেদ ফয়সাল, বিয়ানীবাজার (সিলেট)

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ লাখ টাকার দুটি অত্যাধুনিক বেড অকেজো পড়ে আছে। এগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন বেশ কিছু যন্ত্রাংশ, যার মূল্য দেড় লাখ টাকা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীলরা মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার আবেদন জানালেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল বিভাগে রোগী এলেও তারা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় সেবা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল বিভাগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০০৫ ও ২০১২ সালে সব ধরনের আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বেড প্রদান করে। এসব বেডকে ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতালের দায়িত্বশীলরা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করতে এবং উন্নত বেডগুলো কাজে লাগাতে বারবার যন্ত্রাংশ সরবরাহের আবেদন করলেও মন্ত্রণালয় থেকে তা সরবরাহ করা হয়নি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বেডগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করতে হলে ডেন্টাল বিভাগে হ্যান্ড পিস, মাইক্রোমোটর, সুসার মেশিন, এক্সাট্রাকশন এলিভেটর, বার, ফিলিং মেটেরিয়ালসহ ছোট ছোট ১০-১৫টি যন্ত্রাংশ প্রয়োজন। এসব না থাকায় বেডগুলো অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। ডেন্টাল বিভাগের চিকিৎসক কামরুল হাসান বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন রোগী সেবা নিতে এলেও তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ছোট কিছু যন্ত্রাংশ না থাকায় রোগীদের শুধু ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ দিয়ে বিদায় দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে রোগীরা আমাদের গালাগাল করেন। তিনি আরও বলেন, বেড দেখে রোগীরা মনে করেন, সব কিছু থাকা সত্ত্বেও তারা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না।

মাথিউরার শাম্মী আক্তার বলেন, সাত বছরের মেয়ে ঐশীর দাঁত ক্ষয় হয়ে মাড়ির সঙ্গে লেগে গেছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক বলেন, দাঁতগুলো ফেলে দিতে হবে। তবে সেটি হাসপাতালে সম্ভব হবে না। বাইরের কোনো ডেন্টিস্টের কাছে নিয়ে ফেলতে হবে। একই অভিযোগ পৌরসভার খাসাড়িপাড়ার জুনেদ আহমদের। দাঁতে গর্ত হয়ে যাওয়ায় খাবার আটকে ব্যথা হচ্ছে। হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসক বলেন, বাইরে গিয়ে ফিলিং করাতে হবে। হাসপাতালে এ ব্যবস্থা নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল থেকে ডেন্টাল বিভাগের ছোট ছোট যন্ত্রাংশের জন্য মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার আবেদন করা হলেও এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এসব যন্ত্রাংশ সরবরাহ না পাওয়ায় রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সরবরাহ চাওয়া এসব যন্ত্রাংশের মূল্য সব মিলিয়ে দেড় লাখ টাকা হবে।