শেরপুরে ক্ষতিগ্রস্তদের সংবাদ সম্মেলন

মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

উত্তরবঙ্গের মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের জরিপ কাজে নিয়োজিত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে বগুড়ার শেরপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ভুক্তভোগী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এ অভিযোগ করেন।

এতে লিখিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মতিন সিদ্দিকী বলেন, উত্তরবঙ্গের মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন সাসেক-২ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে রংপুর পর্যন্ত জাতীয় এই মহাসড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু এই জমি অধিগ্রহণের জরিপ কাজে নিয়োজিত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের জন্য শেরপুর পৌর শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৭১১, ৭২৮ ও ১০৯নং দাগে যেভাবে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, তাতে ভূমি অধিগ্রহণ ও জরিপ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা একটি মহলের স্বার্থ রক্ষায় চেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এবং যোগসাজশ করে সড়কের এক পাশ থেকে জমি অধিগ্রহণ করছেন তারা। এ ক্ষেত্রে সরকারি এই মহাসড়কের নকশাও মানা হচ্ছে না। সড়কটির উভয়পাশে জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে যে অংশে সবচেয়ে বেশি স্থাপনা, বাড়িঘর, মার্কেট ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, শুধু সেই পাশে জমি অধিগ্রহণের পাঁয়তারা করছেন ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তারা। এতে করে তারাই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়ে সরকারেরও অধিক অর্থ ব্যয় হবে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিকার চেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মতিন আরও বলেন, মহাসড়কের সরকারি জায়গা ৯৯ ফুট বের করার পর তা ঠিক রেখে উভয়পাশ থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ করা হোক। এতে কারও কোনো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা যারা সার্ভে করতে এসেছেন, তারা অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে মহাসড়কের পূর্ব পাশের জায়গা বাদ দিয়ে শুধু পশ্চিম পাশে মাপ দিয়ে জমি অধিগ্রহণের জন্য নোটিশ দিয়েছেন, যা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত বিষয়টি সমাধানে সংশ্নিষ্টরা উদ্যোগী না হলে নানা কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি তারা আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান এই নেতা। এ সময় স্থানীয় পার্কমাঠ আহলে হাদিস জামে মসজিদ কমিটির নেতা আব্দুল খালেক, আমিনুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন লাভলু, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম শহিদসহ অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।