কোরবানির পশুর হাট

শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা তুঙ্গে

ক্রেতার আগ্রহ দেশি গরুতে

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ইতিমধ্যে অনেকেই কোরবানির প্রিয় পশুটি ক্রয় করেছেন। আবার অনেকেই পছন্দের পশুটি কিনতে পশুর হাট ঘুরে ঘুরে দেখছেন ও কিনছেন। ফলে জমে উঠেছে বেচাকেনা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

হবিগঞ্জ : একেবারের শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে হবিগঞ্জের পশুর হাটগুলো। চলছে ধুন্ধুমার বেচাকেনা। ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার ভারত থেকে কোনো গরু না আসায় দেশি গরুর দাম কিছুটা বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, এমনিতেই দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকে। তারপর এবার দেশি গোখাদ্য উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা দাম বেশি বলেও স্বীকার করেন তারা। তবে ভারত থেকে গরু না আসায় এবারের ঈদে গরু বিক্রি করে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা বিক্রেতাদের।

ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) :শেষ মুহূর্তে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে জমে উঠেছে পশুর হাট। শনিবার হাটে কোরবানির পশু কিনতে বাজারে ভিড় জমান ক্রেতারা। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একমাত্র পশুর হাট ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার হাটে দেশি গরুর জোগান সবচেয়ে বেশি। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় এবার ছোট গরুর চেয়ে বড় গরু বেশি। কোরবানির জন্য ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার গরুই পছন্দ করছেন ক্রেতারা।

গোপালগঞ্জ :জেলার কোটালীপাড়ায় অর্গানিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা গরুর ভালো দাম পেয়ে খুশি খামারিরা। প্রতিটি গরু তারা ৬৫ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। ব্যাপারীরা খামারে এসে তাদের কাছ থেকে এসব গরু কিনে নিয়ে গেছেন। শতভাগ গরু তারা গত শুক্রবারই ব্যাপারিদের কাছে বিক্রি করেছেন। তাদের কাছ থেকে গরু কিনে নিয়ে হাটে তুলছেন ব্যাপারিরা। ব্যাপারিরাও এ গরু বিক্রি করে ভালো লাভের আশা করছেন। ব্যাপারি নির্মল মজুমদার বলেন, তিন থেকে আট মণ ওজনের ২১টি গরু কিনেছি। গড়ে প্রতি মণ গরু ২২ হাজার টাকা দরে কিনেছি। হাটে এ গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ বছর ইন্ডিয়ান গরু হাটে আসেনি। তাই এ গরু বিক্রি করে ভালো লাভের আশা করছি।

সুনামগঞ্জ :সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর হাটে বেচাকেনা জমে উঠেছে। গরু, ছাগল ও ভেড়া আসা শুরু হয়েছে হাটে। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গত বুধবার থেকে পশুর হাট বসেছে। ওই পশুর হাটে প্রথম দিন ১৫টি গরু উঠেছিল। বৃহস্পতিবার পশুর সংখ্যা বেড়ে ৫০টি হয়েছে। শুক্রবার শতাধিক গরুর পাশাপাশি বেশ কিছু ছাগলও ছিল। বাজারের ইজারাদার জানান, আজ রোববার রাত পর্যন্ত এই হাটে পশু বেচাকেনা করা হবে।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) :সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে শেষ মুহূতে কোরবানির পশুর হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে। শনিবার জগন্নাথপুর পৌর এলাকার কেশবপুর ও ভবের বাজারে হাট বসে। এর আগের দিন, অর্থাৎ, গত শুক্রবার প্রাচীনতম পশুর হাট রসুলগঞ্জ বাজারে কোরবানির শেষ হাট সম্পন্ন হয়েছে। আজ রোববার পৌর শহরের সদরে শেষ পশুর  হাট বসবে।

এদিকে জগন্নাথপুরের আশারকান্দি ইউনিয়নের কাঁঠালখাইয়ে অবৈধভাবে পশুর হাট বসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে হাটটি অপসারণের জন্য অভিযানে নামছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, কেশবপুর ও ভবের বাজারের পশুর হাটে সকাল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার ঢল নামে। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও হাটে দাম চড়া বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) : এ বছর স্বরূপকাঠি উপজেলায় পাঁচটি হাটে গরু বেচাকেনা হচ্ছে। সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ, চান মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ, সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ, উত্তর পশ্চিম সোহাগদল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও চাঁদকাঠি হাটে প্রচুর গরু-ছাগল আমদানি হয়েছে। পছন্দের কোরবানির পশু কিনতে হাটগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় পশুর হাটগুলো সরগরম।

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) :হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। গতকাল শনিবার উপজেলার সর্ববৃহৎ পশুর হাট গজনাইপুর জনতার বাজারে কোরবানির পশু বেচাকেনা ছিল জমজমাট। প্রায় ১০ হাজার গরু ও ছাগল হাটে নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। বাজারে টোল আদায়কারীরা জানান, প্রায় ৪-৫ হাজার গরু-ছাগল কেনাবেচা হয়েছে।