প্রস্তুত পর্যটনকেন্দ্র

বাগেরহাট ও মৌলভীবাজার

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাগেরহাট ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং পর্যটনস্পটগুলোতে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

বাগেরহাট :বাগেরহাট জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ ও জেলা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এরই মধ্যে সীমিত করা হয়েছে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বনরক্ষীদের ছুটি। আর ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলীর মাজার, বারাকপুরে অবস্থিত সুন্দরবন রিসোর্ট সেন্টার, শহরের দশানী পার্ক ও দড়াটানা নদী সংলগ্ন পৌর পার্কসহ পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে নেওয়া হয়েছে  নানা উদ্যোগ।

বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদের কাস্টডিয়ান গোলাম ফেরদৌস জানান, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অন্যান্য বছরের মতো এ বছর এখানে পর্যটকের খুব বেশি আগমন ঘটবে বলে মনে হচ্ছে না। এর পরও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের একটি টিমসহ জেলা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ঈদুল আজহায় মূলত স্থানীয় লোকজন এখানে ঘুরতে আসে। ঈদের পরদিন থেকে দর্শনার্থী বা পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে করমজলকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহামুদুল হাসান জানান, ঈদে সুন্দরবনের করমজল, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট ও দুবলারচরসহ পর্যটন স্পটগুলোতে আগমন ঘটে হাজারো পর্যটকের। তাদের নিরাপত্তায় সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঈদের ছুটি সীমিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্যুরিস্টদের ঢল সামাল দিতে, চোরা শিকারির প্রবেশ-বন্যপ্রাণী পাচার রোধে টহল জোরদার করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) :ঈদ সামনে রেখে কমলগঞ্জের টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, ঝর্ণাধারা হামহাম জলপ্রপাত, মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়াপুঞ্জি, মণিপুরি, খাসিয়াসহ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবনধারা, সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ পর্যটকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত। কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। মূল্যবান গাছ, পশুপাখি, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল এটি। এ ছাড়া রয়েছে নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক। লেকসংলগ্ন পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলা, পানির হ্রদ ও তার শাখা-প্রশাখা, দুর্লভ বেগুনি শাপলার আধিপত্য আনন্দের বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে। মাধবপুর লেকের দৃশ্য উপভোগ করে ১০ কিলোমিটার পথ যাওয়ার পরই বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ ঘুরে আসা যাবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময়ে ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা শমশেরনগরে বিমানবন্দরটিও দেখা যাবে এ এলাকায়। এখানেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে গড়ে ওঠা বধ্যভূমি। আছে দৃষ্টিনন্দন ত্রিপুরা দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ডবলছড়া। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বন বিট এলাকায় রয়েছে হামহাম জলপ্রপাত। সেখানে সরাসরি যানবাহন নিয়ে পৌঁছার ব্যবস্থা নেই। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা তৈলংবাড়ী কলাবন বস্তি থেকে হেঁটে রওনা হতে হবে।

এ ছাড়া ভ্রমণের জন্য রয়েছে ব্রিটিশদের শোষণের প্রতীক তিলকপুর নীলকুঠি, ঘটনাবহুল মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ড, বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ মণিপুরি সম্প্রদায়সহ টিপরা, খাসিয়া, গারো সমাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এলাকা।