পশুর হাটে আদায় হচ্ছে অতিরিক্ত হাসিল

নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে অস্থায়ী পশুর হাটে জোরপূর্বক বেশি হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত পাঁচ শতাংশের পরিবর্তে সেখানে হাসিল আদায় হচ্ছে ৬ শতাংশ করে টাকা। এতে হাট থেকে পশু ক্রয়ের পর হাসিল আদায়ের কাউন্টারে গিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন ক্রেতা ও হাসিল আদায়ে নিয়োজিতরা। হাটটির ইজারাদার সদর উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির। তার নিয়োজিত লোকজন ক্রেতাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করছেন। তাদের হাতে লাঞ্ছিত এক ক্রেতা বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন; কিন্তু হাটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা এ ব্যাপারে একেবারেই নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এরই মধ্যে ঈদের ছুটি শুরু হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের লোকজনও এ ব্যাপারে কোনো নজর দিচ্ছেন না। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তারা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী হাসিল আদায়ের নিয়ম হচ্ছে শতকরা ৫ টাকা। বেশি নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৪২ হাজার টাকায় একটি গরু কেনেন আলীগঞ্জের বাসিন্দা রমজান আলী। সরকারি নিয়ম অনুসারে ৫ শতাংশ হারে এ গরুর হাসিল আসবে দুই হাজার ১০০ টাকা; কিন্তু ইজারাদারের লোকজন জোরপূর্বক ৬ শতাংশ হারে ২ হাজার ৫০০ টাকা হাসিল আদায় করেন।

এর আগে চানমারী এলাকায় যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লবের হাটেও ৬ শতাংশ করে হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি নজরে এলে সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিক এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেন। এরপর আলীগঞ্জ হাটেও ৬ শতাংশ হারে হাসিল আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

এ প্রসঙ্গে ফতুল্লা থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন বলেন, আমরা হাটের নিরাপত্তার বিষয়টির ওপর বেশি নজর দিচ্ছি। হাসিলের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করবে, যে সংস্থা ইজারা দিয়েছেন। এর পরও যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাই তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।