চার বছর ধরে বন্ধ ইসিজি সেবা

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

হৃদরোগে আক্রান্ত ও বুকে ব্যথা অনুভব করা রোগীদের জন্য প্রাথমিকভাবে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি (ইসিজি) পরীক্ষা করানো হয়। কিন্তু চার বছর ধরে কার্ডিওগ্রাফার না থাকায় পরীক্ষাটি করা যাচ্ছে না ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ফলে বন্ধ রয়েছে ইসিজি সেবা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্ডিওলজিস্ট রয়েছেন। প্রায় চার বছর ধরে নেই কার্ডিওগ্রাফার। ২০১৪ সালের ১৩ অক্টোবর কার্ডিওগ্রাফার আনোয়ারুল কাদির অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে ইসিজি সেবা। জরুরি প্রয়োজনে ইসিজি মেশিনটি ব্যবহার করা গেলেও কিছুদিন ধরে সেই মেশিনটিও বিকল হয়ে পড়েছে। ওই অবস্থায় ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি (ইসিজি) সেবাটি বন্ধ রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের রোগ শনাক্ত করতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রোগীদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিল্ম না থাকায় রোগীদের বুকের এক্স-রেও করা যাচ্ছে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসন্ন হজ যাত্রীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে পড়ছেন বিপাকে। হজ যাত্রীদের জন্য ৫টি পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে মূত্র পরীক্ষা, ব্লাড সুগার, ব্লাড গ্রুপিং, ইসিজি ও এক্স-রে। কিন্তু হজ যাত্রীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জানতে পারেন কার্ডিওগ্রাফার না থাকায় করা যাবে না ইসিজি। এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় করা যাবে না এক্স-রে। ফলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে হজ যাত্রীদের। শুধু হজযাত্রী নন, সাধারণ রোগীদেরও সরকারি এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩৩ চিকিৎসকের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২০ জন। এর মধ্যে তিনজন রয়েছেন প্রেষণে। ২০১৩ সাল থেক বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত রয়েছেন এক চিকিৎসক। ২০১৪ সাল থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন সোহাগী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক।

এ ছাড়া শূন্য রয়েছে ১৩টি চিকিৎসকের পদ। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নেই আবাসিক মেডিকেল অফিসার। জুনিয়র কনসালট্যান্ট ইএনটি, চক্ষু, এনেসথেসিয়া, সার্জারি, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কিছু চিকিৎসক। ওই অবস্থায় সেবা নিতে আসা গ্রামের সাধারণ মানুষকে ছুটতে হয় জেলা শহরে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় দরিদ্র রোগীদের।

মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হলুদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে ইসিজি সেবা বন্ধ থাকলেও সেটি চালুর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। ফিল্ম না থাকার অজুহাতে এক্স-রে হচ্ছে না। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষ প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে কার্ডিওগ্রাফার না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বড় ফিল্ম না থাকায় এক্স-রে করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্যান্য সমস্যাও কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।