ধুরুং নদীর ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ফটিকছড়িতে হুমকিতে সেতু

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮

ইকবাল হোসেন মনজু, ফটিকছড়ি

ফটিকছড়ি পৌর এলাকা দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা ধুরুং নদীর ব্যাপক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে কয়েকটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি ও একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। সরেজমিনে দেখা যায়, এরই মধ্যে পৌর সদরের বিবিরহাট বাজারের পশ্চিমে আনু হাজির বাড়ির ফজল আহমদ, ভেলা ফকিরের ঘর, ইসমাইল মোয়াজ্জিন বাড়ির আবুল কালাম, সেলিম উদ্দিন, শাহাজাহান, নুরুল হক, ইয়াকুবের ঘর, দাশপাড়ার মন্টু দাশ, অনীল দাশ, গৌরাঙ্গ দাশ, বাবুল দাশ, লেদু ও নুরুদের ঘরসহ প্রায় ২৫ ঘর ধুরুং নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মধ্যে পড়েছে ফটিকছড়ি পৌর সদরের গোয়াজ ফকিরবাড়ি, হাড়িপাড়া, উত্তর ধুরুং এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ও কয়েক কোটি টাকায় নির্মিত ধুরুং নদীর লামারঘাট ব্রিজটি। এ ছাড়া ভাঙন এলাকা দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়ে ফটিকছড়ি পৌর এলাকার দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু, কালভার্ট ধ্বংস হয়েছে।

ফটিকছড়ি পৌরসভা অফিসের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি বন্যায় পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ২২৫টি কাঁচা ঘরবাড়ি, ৭০টি ছোট-বড় রাস্তা বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে। পৌর এলাকার কয়েকশ' পুকুরের মাছ ভেসে গেছে ও হাজার হাজার একর জমির আমন বীজতলা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

ধুরুং নদীর ভয়াবহ ভাঙন নিয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কাসেমসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর এলাকার মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত ধুরুং নদী গত বছর বর্ষায় একাধিক স্থানে ভেঙে যায়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে ভাঙনগুলো মেরামত করেনি। এবারের বন্যায় সেই পুরনো ভাঙনগুলোর পাশাপাশি আরও নতুন কয়েকটি পয়েন্টে ধুরুং নদী ভেঙে গিয়ে পানি প্রবেশ করে পৌর এলাকা ভাসিয়ে দেয়। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো পৌর এলাকার মধ্যেই ধুরুং নদীর ওপর সেই পাকিস্তানি আমলে নির্মিত একটি বাঁধই বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

ভাঙনের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে জানতে চাইলে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অলি আফাজ চৌধুরী বলেন, ধুরুং নদীর উল্লিখিত ভাঙনগুলো মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভাঙনের স্থানগুলো মেরামত করা হবে।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মো. ইসমাইল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছর হালদা প্রজেক্টের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা একটি টিম ধুরুং নদীর ওই বাঁধটি সরেজমিন পরিদর্শন করে হালদায় পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বাঁধটি তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে। বাঁধটিকে সময়োপযোগী করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারি বিভিন্ন মিটিং এবং বিভিন্ন ফোরামে বহু আগে থেকেই আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড রহস্যজনক কারণে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বাঁধটি তুলে দেওয়াসহ সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষত-বিক্ষত ফটিকছড়ি পৌর এলাকাকে পুনর্গঠনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।