প্লাস্টিকের বোতলের কারণে হুমকিতে দোয়ারী শিল্প

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর

বর্ষার শুরুতেই ফরিদপুরের পদ্মাতীরের চরভদ্রাসন ও সদর উপজেলায় দোয়ারী কেনাবেচার ধুম পড়েছে। কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন বাঁশজাত এ হস্তশিল্প তৈরিতে। সম্প্রতি চোরাশিকারিরা প্লাস্টিকের বোতলকে দোয়ারীর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করায় বেশ হুমকির মুখে পড়েছে এ শিল্প সংশ্নিষ্টরা।

পদ্মা নদীপাড়ের দুস্থ পরিবারগুলোর বর্ষাকালে দোয়ারী তৈরি ও বিক্রি করাই প্রধান পেশা। আর এ দোয়ারী তৈরি ও বিক্রি করে এ অঞ্চলের সহস্রাধিক পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। এ মৌসুমে দোয়ারীর চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ, তাই এখন দোয়ারী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। নিজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এসব দোয়ারী যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে দোয়ারীপট্টি নামেই গড়ে উঠেছে একটি গ্রাম।

এলাকাবাসী জানায়, আষাঢ়ে খাল-বিল, নদী-নালায় নতুন পানি উঠতে শুরু করেছে। সে সঙ্গে দেশীয় মাছের প্রজনন হওয়ায় মাছের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। দেশীয় মাছের স্বাদ নিতে গ্রামের খাল-বিল এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে বাঁশের তৈরি মাছ ধরার বিশেষ ফাঁদ দোয়ারী পাতছেন চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানের মৎস্যজীবী ও নানা পেশার মানুষ।

দোয়ারীর কারিগররা জানান, দোয়ারী তৈরি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানো সহজ হয়। তবে বর্তমানে প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে গোপনে মাছ ধরা শুরু হওয়ায় আগের মতো দাম পাওয়া যাচ্ছে না দোয়ারীর। দোয়ারীকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আওতায় নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা।

পদ্মাপাড়ের চরহাজীগঞ্জ হাটে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বসে দোয়ারীর হাট। বিভিন্ন গ্রাম থেকে দোয়ারী নিয়ে হাটে আসেন বিক্রেতারা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা হাটে ভিড় জমান। তারা এখান থেকে দোয়ারী কিনে নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন স্থানে।

হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট ও বড় দোয়ারীর স্তূপগুলো বিক্রি হচ্ছে শতক হারে। একশ' ছোট আকারের দোয়ারী সাড়ে ৫ হাজার টাকা এবং একশ' বড় আকারের দোয়ারী সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।

প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে মাছ ধরা প্রসঙ্গে ফরিদপুর অঞ্চলের পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডি লুৎফর রহমান বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন সবসময়ই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সরকার আইন করে বিশেষ ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বন্ধ করেছে এবং ন্যাচারাল ফাইবারের শিল্পকে উৎসাহিত করে আসছে। স্রোতস্বী নদীনালায় ওয়ানটাইম প্লাস্টিক বোতল দিয়ে দেশীয় মাছ শিকার কোনো মতেই পরিবেশবান্ধব নয়।

ফরিদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী এ বিষয়ে বলেন, শুনেছি এ বছর কিছু অসাধু মৎস্য শিকারি গোপনে পদ্মা নদীতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে ডিমওয়ালা চিংড়ি শিকার করছে। এতে দেশি মাছের বংশবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী অভিযান চালিয়ে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।