জোয়ারের পানি বাড়লেই আতঙ্ক

ইন্দুরকানীতে বেড়িবাঁধ নেই

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮

পিরোজপুর ও ইন্দুরকানী প্রতিনিধি

পিরোজপুর জেলার নদীবেষ্টিত ইন্দুরকানী উপজেলায় বেড়িবাঁধ না থাকায় নদী-তীরবর্তী মানুষের মধ্যে বর্ষা মৌসুমে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলেই এলাকার মানুষ থাকে ভীতির মধ্যে।

ইন্দুরকানী উপজেলাটি তিন দিক থেকে নদীবেষ্টিত। বেড়িবাঁধ ও পর্যাপ্ত পাইলিংয়ের অভাবে জোয়ার আর বৃষ্টিতে পানি বাড়লেই নদী-তীরবর্তী মানুষের মধ্যে বাড়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক। এ আতঙ্ক এখন এই এলাকার মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

নদী-তীরবর্তী অধিকাংশ এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে ওই সব এলাকার বাসিন্দারা। কৃষিনির্ভর এলাকা হওয়ায় ফসলের ক্ষতিসহ নানামুখী ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে এ উপজেলাটি প্রায় বিধ্বস্ত জনপদে পরিণত হয়েছিল। তখন উপজেলার ৭২ নারী-পুরুষ ও শিশুর প্রাণহানি ঘটে। উপজেলার নদীতীরের বেড়িবাঁধগুলো সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। পরে কিছু বেড়িবাঁধে নামমাত্র সংস্কার হলেও তা সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। সামান্য জোয়ারে লোকালয় পানিতে প্লাবিত হয়। ডুবে যায় ফসলের ক্ষেত। আবার লবণাক্ত পানিও জোয়ারের সঙ্গে ঢুকে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করে। জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা কচুরিপানা জমে যায় ফসলের ক্ষেতে। ডুবে যায় যাতায়াতের পথ। পানির চাপে ভেঙে যাচ্ছে বসতঘরের মাটির তৈরি মেঝে। ভেসে যায় মাছের ঘের। স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সব মিলিয়ে বেড়িবাঁধ সংকটে দিশেহারা স্থানীয়রা।

ইন্দুরকানী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পূরবী রানী দাস জানান, বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার বেশকিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়। নদী-তীরবর্তী বিদ্যালয়গুলোতে যাতায়াতের পথ জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়ায় শিশু শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হতে পারে না। তাই এ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক পাইলিং করা একান্ত প্রয়োজন।

উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামের বলেশ্বর নদের তীরে বসবাস করেন ফরিদা বেগম। ঘূর্ণিঝড় সিডর তার কোল থেকে কেড়ে নিয়েছে সাত বছর বয়সের মিমি ও তিন বছরের রিনাকে।

ফরিদা বেগম বলেন, 'মোর মতো আর যেন কেউর কোল খালি না অয়। বেড়িবাঁধ না থাহায় মোরা ম্যালা বিপদে আছি। জোয়ার অইলেই উডান বাড়ি সব তলাইয়া যায়। ভয়তে থাহি আবার কোনো সময় সিডরের নাহান পানিতে সব ভাসাইয়া লইয়া যায়। এ্যাহোনো মোগো নদীর পারে নির্মাণ হয়নি বেড়িবাঁধ।'

অন্যদিকে, পাড়েরহাট ইউনিয়নের টগড়া গ্রামটি তিন দিক থেকে কচাঁ ও বলেশ্বর নদের গাঁ ঘেষে থাকায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সিডর ও আইলায়। বর্তমানে বেড়িবাঁধের কাজ করা হলেও তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ জায়গা থেকে ভেঙে গেছে।

ইন্দুরকানীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহমেদ বলেন, পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ইন্দুরকানীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার একটি বরাদ্দ দিয়েছেন। যার টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন।