আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ভাণ্ডারিয়া পৌরবাসী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌরসভায় বর্জ্য নিস্কাশনে অব্যবস্থাপনার ফলে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে। পৌর শহরের ব্যবসায়ী ও

বাসাবাড়ির নিত্যদিনের ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলায় শহরের পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। এসব বর্জ্য অপসারণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পৌরবাসী।

স্থানীয়রা জানান, নবগঠিত পৌরসভায় জনবল কাঠামোসহ নানা সংকটে শহর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শহরের প্রতিদিনের ময়লা অপসারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় দুর্গন্ধে বাতাস দূষিত হয়ে পড়ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জমে থাকা ময়লা যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দুর্গন্ধে বাজারের মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অফিস-আদালতগামী মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ২০১৫ সালে গঠিত এ পৌরসভায় এখনও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাণ্ডারিয়া বাসস্ট্যান্ডের মহাসড়কের দুই পাশে, মাছ বাজার-সংলগ্ন ভূবনেশ্বর খালের পাড়ে, শহরের প্রাণকেন্দ্র কালীমন্দিরের আশপাশে, সাবেক উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমিজুড়ে, সার্কিট হাউসের সম্মুখে ও মুক্তিযোদ্ধা ভবন এলাকায় অস্থায়ীভাবে ময়লার স্তূপ করে রাখছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। বৃষ্টির পানিতে এসব ময়লার স্তূপ যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মশা-মাছির উপদ্রব দেখা দিয়েছে। শহরের মাছ বাজারের ভূবনেশ্বর খালে ময়লার ভাগাড় করার কারণে নৌযান চলাচলেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভাসমান ব্যবসায়ীরা।

ভাণ্ডারিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সালাম খন্দকার বলেন, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধের কারণে শহরের মানুষ এখন অতিষ্ঠ। রাস্তা-ঘাটে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পৌর শহর থেকে দূরে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনার মজুদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি।

ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার পরিছন্নতা পরিদর্শক খলিলুর রহমান জানান, বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার রাখতে শ্রমিক ও সুইপার রয়েছে মোট ৮ জন। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে নিতে ২টি ট্রাক ও ৪টি ছোট ভ্যান গাড়ি রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের চাহিদার চেয়ে ৩০ জন কর্মচারী ও ভ্যান কম রয়েছে। ফলে শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ভাণ্ডারিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন আক্তার সুমী জানান, ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।