আমন বীজের কৃত্রিম সংকট

শরণখোলায় দ্বিগুণ দাম নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় চলতি আমন মৌসুমে সরকারের সরবরাহ করা বিএডিসির উচ্চ ফলনশীল বীজ ধান বিক্রিতে চাষিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতানোর অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় বীজ ধান নিয়ে কৃষকদের মাঝে একপ্রকার কাড়াকাড়ি চলছে।

তিন জাতের বীজ ধান সরকার নির্ধারিত মূল্যে জুনের মাঝামাঝি সময় উপজেলার চার ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে সরবরাহের জন্য রায়েন্দা মেসার্স সরোয়ার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স শহিদুল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স রাসেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স স্বপন নাগ এন্টারপ্রাইজকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয় বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কিছু অসাধু ডিলার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে বীজ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা মুনাফা হাতাচ্ছেন।

কৃষকরা বলেন, ১০ কেজি ওজনের উচ্চ ফলনশীল এক বস্তা ধানের দাম সরকারিভাবে ৫৫০ ও ৬২০ টাকা হলেও ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতি বস্তা ৮০০, ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত দাম নিচ্ছেন। বীজ ধান ক্রয় নিয়ে দর কষাকষি করলে ধান নেই বলে অনেক কৃষককে ফিরিয়ে দেন মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের অনেকেই।

তবে, ডিলাররা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তারা সরকার নির্ধারিত নিয়মেই বীজ বিক্রি করছেন। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিয়ে থাকলে তার দায় তাদের নয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার বলেন, বেশি দামে ধান বিক্রির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। শিগগিরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে অভিযান চালানো হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয় খুলনা বিভাগের বিএডিসির উপ-পরিচালক মো. লিয়াকত আলী জানান, বীজ ধানের কোনো সংকট নেই এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বীজ বিক্রির বিষয়টি বৈধ নয়। এ ছাড়া বীজ ধান বিক্রিতে কোনো ডিলার অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের লাইসেন্স বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।