ভাঙ্গায় বিয়ে করে প্রতারণার শিকার কলেজছাত্রী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮     আপডেট: ০৬ জুলাই ২০১৮

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাওলীবেড়া ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের সরোয়ার মাতুব্বরের কলেজ পড়ূয়া মেয়ে কনিকা আক্তার ভালোবেসে পরিবারের অমতে বিয়ে করে স্বামীর অধিকার না পেয়ে এখন দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন।

জানা যায়, কলেজে পড়ার সময় একই কলেজের ছাত্র উপজেলার পল্লিবেড়া গ্রামের শফিউদ্দিন মাতুব্বরের ছেলে আমানুর ইসলামের সঙ্গে কনিকার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যরা তাদের বিয়েতে রাজি না হলে প্রেমিক  তার কয়েক বন্ধুকে সঙ্গে করে প্রেমিকাকে নিয়ে গত ৩ মার্চ অজ্ঞাত একটি কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে ও কাবিন করার নাটক করে। এর পর থেকে তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়ের বাড়িতে বসবাস করতে থাকে।

এক পর্যায়ে কনিকা তাকে তার শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যেতে আমানুরকে চাপ প্রয়োগ করে। আমানুর কনিকাকে তার বাড়িতে না তুলে বিভিন্ন অজুহাতে তার সঙ্গে প্রতারণা করতে থাকে এবং তাকে নিয়ে এবাড়ি-সেবাড়ি ঘুরতে থাকে। কনিকা স্ত্রীর অধিকার এবং তাকে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকলে আমানুর তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মেয়েটি প্রতারণার শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। কিছুদিন পর কনিকা তার বাবা বাড়িতে ফিরে যায়। বাবার বাড়িতে আসার পরও আমানুর তার সঙ্গে কিছুদিন যোগাযোগ রাখে। এক পর্যায়ে সে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বৃহস্পতিবার কনিকা আক্তার তার বাবার বাড়িতে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তরুণীটির নানা আ. হক হাওলাদার বলেন, এ ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকবার পল্লীবেড়া গ্রামে আমানুরের বাড়িতে স্থানীয় বাদল মাতুব্বর, হাসমত মিয়া, মতিন সরদার,  রাজন হাওরাদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ  বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে বাধ্য  হয়ে মেয়ের বাবা ভাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মেরাজ হোসেন বলেন, মেয়েটির বাবা ভাঙ্গা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছে।