একটা কার্ড দেন, পেট ভরে খাই একদিন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮     আপডেট: ০৬ জুলাই ২০১৮

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি

আমাকে একটা কার্ড দেন; একদিন পেট ভরে ভাত খাই। সবাই তো প্রতিদিন ভালো ভালো খাবার খায়; আমরা না হয় একবেলা পেট ভরে খাই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী বকুল (৩০)।

জন্ম থেকেই পরিবারের অসচ্ছলতা ধাওয়া করছে বকুলকে। দুই ভাই বিয়ের পর মা ও তাকে রেখে চলে যায়। মেয়ে হয়েও অভাবের সংসারে মায়ের সঙ্গে হাল ধরতে চেয়েছেন বকুল। বেঁচে থাকার তাগিদে তারা ১৫ বছর আগে ঢাকামুখী হন। সেখানে মানুষের বাসায় দু'জনে কাজ করতে থাকেন। ৪ বছর পর মা-মেয়ে গ্রামের বাড়ি ফেরেন। এলাকাবাসীর সহায়তায় বিয়ের পর বকুল স্বামীকে নিয়ে বাবার ভিটাতেই থাকতেন। বছর পর কোলজুড়ে আসে ছেলে। সন্তান প্রসবের ৩ দিনের মাথায় প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন বকুল। এর পর আর দাঁড়াতে পারেননি। বকুল প্রতিবন্ধী হওয়ার পর স্বামীও তাকে ছেড়ে চলে যায়।

বকুলের মা মোমেনা খাতুন বলেন, এখানে খাওয়ার কষ্টের কারণে ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন বাসায় কাজ করতাম। মেয়েটি অসুস্থ হওয়ায় ওকে রেখে আর ঢাকা যেতে পারিনি। খুব অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। মেয়েটি দাঁড়াতে না পারায় সারাদিন শুয়ে-বসে থাকে। বকুল বলেন, আমি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ভাতা পাইনি। আমার চেয়ে অনেক সুস্থ মানুষ সরকারি কার্ড পায়, চাল পায়, টাকা পায়। অথচ আমার ভাগ্যে কোনো সাহায্য জোটেনি। বহু জনের কাছে গিয়েছি একটি কার্ডের জন্য, কিন্তু জুটল না।

প্রতিবন্ধী বকুল ও তার বয়স্ক মা মোমেনা খাতুন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করছেন, তাদের নামে যেন সরকারিভাবে যে কোনো সাহায্য দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইউছুফ আলী বলেন, খোঁজ নিয়ে ভাতার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।