একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর; বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর তীরে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সেনারা। সেই যুদ্ধে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। নাম না জানা আরও অর্ধশত যোদ্ধা শহীদ হন সেদিন। মহানন্দার সেই যুদ্ধকে নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন ২০ তরুণ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে তাদের এই ১০ মিনিটের পারফরম্যান্স আর্দ্র করে তোলে দর্শককে। সাংস্কৃৃতিক সংগঠন 'সাধনা' এই নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে।

শুধু সাধনা নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় নৃত্য উৎসবের উদ্বোধনী দিনে আরও ১৪টি নাচের দলের নৃত্যশিল্পীরাও মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের।

শিল্পকলা একাডেমির 'ড্যান্স অ্যাগেইনস্ট করোনা' শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় তিন দিনের এই উৎসবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির সচিব মো. আছাদুজ্জামান। ৭৫টি নৃত্যদলের অংশগ্রহণে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এ উৎসবের বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে। কাল শনিবার শেষ হবে এ উৎসব।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, 'নৃত্য হচ্ছে সব শিল্পের জননী। সেই জননীকে ঘিরেই তিন দিনের এ উৎসব।'

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, বৈশ্বিক মহামারির প্রকোপে শিল্পী সমাজ আজ বিপর্যস্ত। এই ক্রান্তিকালে মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নানা আয়োজনের পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমি ডান্স এগেইনস্ট করোনা শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এ উৎসবে ৭৫টি মৌলিক নতুন নৃত্য সৃজনের লক্ষ্যে একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে। প্রতিটি দলে নূ্যনতম ১০ জন করে নৃত্যশিল্পী কাজ করছেন। আবার কোনো কোনো দলে ২০-৩০ জন নৃত্যশিল্পীও অংশ নিয়েছেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে একাডেমি ৭৫ জন নৃত্যপরিচালকসহ দেশের প্রায় এক হাজার নৃত্যশিল্পীকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। নতুন নৃত্য প্রযোজনা নির্মাণের জন্য ঢাকার বাইরের ৫০টি দলকে এক লাখ টাকা এবং ঢাকার ২৫টি দলকে ৮০ হাজার করে মোট ৭০ লাখ টাকা অর্থ সহযোগিতা করা হয়েছে।

প্রথম দিনের পরিবেশনা :এ পর্বে সামিনা হোসেন প্রেমার পরিচালনায় 'ভাবনা', মানস তালুকদারের পরিচালনায় ময়মনসিংহ জেলার দল 'নৃত্যগ্রাম', মো. গোলাম মোস্তফা খানের পরিচালনায় 'বেণুকা ললিতকলা কেন্দ্র', জ্যোতি সিনহার পরিচালনায় মৌলভীবাজারের 'মণিপুরি থিয়েটার', সৈয়দা সায়লা আহমেদ লিমার পরিচালনায় 'ভঙ্গিমা ডান্স থিয়েটার', লুবনা মারিয়ামের পরিচালনায় 'সাধনা', আমানুল হকের পরিচালনায় 'বাংলাদেশ ব্যালে ট্রুপ', র‌্যাচেল প্রিয়াংকা প্যারিসের পরিচালনায় 'বাংলাদেশ গৌড়ীয় নৃত্য একাডেমি', অমিত চৌধুরীর পরিচালনায় 'কায়া আশ্রম', নিলাঞ্জনা যুঁইয়ের পরিচালনায় সিলেটের দল 'নৃত্যশৈলী', আবু নাঈমের পরিচালনায় 'নাঈম খান ডান্স কোম্পানি', সাহিদা রহমান সুরভীর পরিচালনায় 'বহ্নিশিখা', সাইফুল ইসলাম ইভানের পরিচালনায় 'ইভানস ড্যান্সপিরেশন ভান', এম আর ওয়াসেকের পরিচালনায় 'নন্দন কলা কেন্দ্র' ও মো. মোফাসসাল হোসেনের পরিচালনায় 'অ্যালিফিয়া স্কোয়াড' দলের নৃত্যশিল্পীরা পারফর্ম করেন।

মন্তব্য করুন