ইরাক যুদ্ধের অন্যতম দূতিয়াল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ভিয়েতনাম যুদ্ধের এই বীর স্থানীয় সময় সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। করোনার দুই ডোজ টিকা নিলেও আগে থেকে ক্যান্সারসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।

তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। খবর বিবিসি, সিএনএন ও এএফপির।

পরিবারের পক্ষ থেকে ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কলিন পাওয়েলের মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, 'আমরা একজন স্মরণীয় ও ভালোবাসার স্বামী, বাবা, দাদা এবং একজন মহান আমেরিকানকে হারালাম।'

কলিন পাওয়েল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর হয়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের মেয়াদের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হন প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত এই সামরিক কর্মকর্তা। প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচডব্লিউ বুশের আমলে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান হন। চারজন প্রেসিডেন্টের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ও একুশ শতকের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। উপসাগরীয়

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়ের পর কলিন পাওয়েলের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। তখন আলোচনা শুরু হয়, তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে যোগ্য ব্যক্তি। অথচ তিনি কখনও প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতাই ঘোষণা করেননি।

ঘাতকব্যাধি এইচআইভি এইডসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে প্রশংসিত কলিন পাওয়েল ইরাক যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হন। এই যুদ্ধের পক্ষে দূতিয়ালি করতে গিয়ে জাতিসংঘে ভুল গোয়েন্দা তথ্য উত্থাপন করেছিলেন তিনি। ইরাকে গণবিধ্বংসী রাসায়নিক অস্ত্রের ভান্ডার আছে এবং এ কারণেই যুদ্ধের ন্যায্যতা রয়েছে- এমন বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভুল বুঝিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি তার জন্য কলঙ্ক হয়ে রয়ে গেছে। ২০০৫ সালে তিনি ওই ঘটনাকে তার পেশাজীবনের বেদনাদায়ক 'কলঙ্কচিহ্ন' হিসেবে বর্ণনা করেন।

ইরাক যুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বে সমাদৃত ছিলেন কলিন পাওয়েল। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডব্লিউ বুশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, অনেক প্রেসিডেন্টই পাওয়েলের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতেন। পাওয়েল প্রেসিডেন্টদের এত পছন্দের ছিলেন যে, তিনি দু'বার প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম পেয়েছেন।

তার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, বারাক ওবামাসহ সাবেক প্রেসিডন্ট, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ বিশ্বের অনেক নেতা শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

কলিন পাওয়েল রিপাবলিকান রাজনীতি করলেও ২০০৮ সালে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলে তার সমর্থনে দল ত্যাগ করেন তিনি। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে দাঁড়ালে তার কড়া সমালোচনায় সরব হন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বজন গ্রহণযোগ্য এই রাজনীতিক।

১৯৩৭ সালের ৫ এপ্রিল নিউইয়র্কের হারলেমে জন্মগ্রহণ করেন কলিন পাওয়েল। তার পুরো নাম কলিন লুথার পাওয়েল। তার বাবা-মা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে জামাইকান অভিবাসী।































মন্তব্য করুন