কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে ভাঙচুর, হামলা ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা সংগঠন বিক্ষোভ করে। এসব কর্মসূচি থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত উপড়ে ফেলার পাশাপাশি হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

এরই মধ্যে মৌলবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার সারাদেশে 'সম্প্রীতি রক্ষা দিবস' কর্মসূচি পালন করা হবে। সারাদেশের সংস্কৃতিকর্মীরা সামাজিক-পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করবেন। এতে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ সম্মিলিতভাবে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার শপথ নেবে। কুমিল্লায় পূজামণ্ডপের ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হবে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় সম্প্রীতি রক্ষা দিবস পালন করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নোয়াখালীর চৌমুহনীতে গিয়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শন করবেন। প্রতিনিধি দলটি সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলবে। এর পর তারা সেখানে একটি সম্প্রীতি সমাবেশে অংশ নেবে। এ ছাড়া রাজধানীর চারটি এলাকা- মিরপুর, সদরঘাটের বাহাদুর শাহ পার্ক, দনিয়া ও উত্তরায় জোটের স্থানীয় ইউনিটের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ জানিয়েছেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং মহিলা পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল আজ চৌমুহনীর দাঙ্গাপীড়িত দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাবে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ সমকালকে বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে 'সম্প্রীতি রক্ষা দিবস' নামে যে একটা দিবস পালন করতে হবে- এটা আমরা কখনও ভাবতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমরা আনন্দ-বেদনা সবকিছুই সব ধর্মের মানুষ ভাগ করে নিয়েছি। কিন্তু সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করছি, কোনো কোনো মহল বিশেষ উদ্দেশ্যে, গোষ্ঠীগত স্বার্থে কখনও কখনও হীন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে মিথ্যাচারের মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ফায়দা হাসিল করছে। এ ছাড়া তারা নানা ধরনের চোরাগোপ্তা আক্রমণ চালিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করছে। এটি ন্যক্কারজনক। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের মূলনীতির বিরোধী, বাঙালির সহজাত আদর্শের বিরোধী। সুতরাং এদের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা সারাদেশে 'সম্প্রীতি রক্ষা দিবস' পালন করছি।

ঢাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ :আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, গতকাল সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে শিক্ষকরাও অংশ নেন। সকাল ১০টা থেকে পৌনে চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিক্ষোভকারীরা সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দিয়ে অবরোধ তুলে নেন। তাদের অবরোধের ফলে শাহবাগের আশপাশ এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচি থেকে হামলার শিকার মন্দিরগুলোর শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংস্কার, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ক্ষতিপূরণ, 'ধর্ষণ ও হত্যার শিকার' পরিবারগুলোকে স্থায়ী ক্ষতিপূরণ ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের বাসাবাড়িতে সাম্প্রদায়িক হামলার দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও কমিশন গঠন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে আধুনিকায়ন করে ফাউন্ডেশনে উন্নীত করা এবং জাতীয় বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য জিডিপির ১৫ শতাংশ বরাদ্দ করার দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা।

দুপুর সোয়া ২টার দিকে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণায় ঢাবি জগন্নাথ হলের ছাত্র ও হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়জিৎ দত্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবিগুলোর বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের চলা ওই অবরোধে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ মিহির লাল সাহা, সাবেক প্রাধ্যক্ষ অসীম কুমার সরকার ও আইন বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে যোগ দেয় ইসকন বাংলাদেশ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রীপদ চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী তার বক্তব্যে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

এর আগে সকালে ইসকন বাংলাদেশ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। এতে নেতারা বলেন, এ দেশ হিন্দু সম্প্রদায়েরও। কারা নানা অজুহাতে হামলা চালিয়ে হিন্দুদের দেশছাড়া করতে চায়- তা সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে।

ইসকনের সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ৈ সমাবেশে বলেন, হিন্দুরা এ দেশ ছেড়ে যেতে চায় না। সরকারকে এ দেশে হিন্দুদের শান্তিতে বসবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে দিনভর উত্তাল ছিল ঢাবি ক্যাম্পাস। বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। ওই সমাবেশে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে কোনো হিন্দু-মুসলিম জড়িত নয়। এতে দুর্বৃত্তরা জড়িত। সেই দুর্বৃত্তরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

সন্ধ্যায় টিএসসিতে মশাল মিছিল করেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। পরে তারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সেখান থেকে হামলার মৌন প্রতিবাদ হিসেবে আগামী দুইদিন শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণের ঘোষণা দেন।

এদিকে প্রগতিশীল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, ছাত্র-যুব সংগঠন, কবি-লেখক-প্রকাশকরা আগামী বুধবার শাহবাগে 'সাম্প্রদায়িকতা সহিংসতা রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ' শিরোনামে প্রতিবাদ ও মশাল মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে।

সাংবাদিকদের মানববন্ধন :ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির-মণ্ডপসহ হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের তথা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনার ওপর আঘাত করেছে একটি চক্র। এ চক্রটি দেশকে ধর্মান্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।

গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে 'সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখে দাঁড়াও' শিরোনামে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এতে সাংবাদিক নেতারা জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার রক্তে, সবার লড়াইয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে সাংবাদিকরা আছেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন জানান, এ দেশ যে ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাতে ধর্মের বিভেদ নেই। সবার মিলেমিশে থাকার জন্য এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, একটি চক্র এ দেশকে ধর্মান্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। কারা দাঙ্গা বাধিয়ে মানুষ মারার পরিস্থিতি করতে চাইছে, তাদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব ওমর ফারুক, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ প্রমুখ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামাল প্রমুখ।

বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ :গতকাল 'অদলীয় রাজনৈতিক সামাজিক মঞ্চ'-এর প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক হুমায়ুন কবির হিরু, প্রকাশক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সারাদেশে হামলা, ভাঙচুর এবং সর্বশেষ রংপুরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিছক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা নয়, বরং বাঙালির তৃতীয় জাগরণের পর্যায়কালকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে যেতে না দেওয়ারই চেষ্টা।

'সম্প্রীতি বাংলাদেশ'-এর আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সদস্য সচিব মামুন আল মাহতাব স্বপ্নিল বিবৃতিতে বলেন, দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে ইস্যু সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক হামলার মাধ্যমে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী সম্প্রীতি ও বাঙালি সংস্কৃতির বহুত্ববাদকে চ্যালেঞ্জ করতে চাচ্ছে।

রংপুরের পীরগঞ্জ, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছে শিক্ষকদের নীল দল।

সারাদেশে বিক্ষোভ অব্যাহত :চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর চেরাগী পাহাড়ের মোড়ে সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এতে সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেন, দেশের এক সম্প্রদায়ের নাগরিকদের দুর্গাপূজাকে নানাভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের সংবিধানকে একটি সত্যিকারের অসাম্প্র্রদায়িক সংবিধান হতে হবে।'

সমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, '২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে দল সরকার গঠন করে, তাদের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আজকের দিনে বলতে চাই- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে; কিন্তু এটা বঙ্গবন্ধুর দল নয়।'

তিনি বলেন, 'পুলিশ-বিজিবির ওপর নির্ভর করে হামলা থেকে রক্ষা মিলবে না। সব রাজনৈতিক দল, দেশপ্রেমিক জনগণ, ধর্মপ্রাণ আলেম-ওলামা, পুরোহিত, যাজককে সংঘবদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশে দাঁড়াতে হবে।'

সমাবেশে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, 'সমাজের রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ সাম্প্র্রদায়িকতার বিষবাষ্প ঢুকে পড়েছে। সমাজের পচন ঠেকাতে শেষবারের মতো বড় রকমের ধাক্কা দিতে হবে, যা হলো সামাজিক আন্দোলন।'

সমাবেশে বক্তব্য দেন পেশাজীবী নেতা ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, সংগীতশিল্পী কল্পনা লালা, জাসদ নেতা জসিম উদ্দিন বাবুল। চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি শৈবাল চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, নূরজাহান খান, রাশেদ হাসান, শরীফ চৌহান প্রমুখ।

সিলেট ব্যুরো জানায়, গতকাল সিলেটে বিভিন্ন মন্দির জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পাহারা দিয়েছেন। এ ছাড়া রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকাতেও প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। বরিশাল ব্যুরো জানায়, সোমবার সকালে নগরীর রাধা শ্যামসুন্দর মন্দির থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এ ছাড়া বিকেলে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে সম্প্রীতি নাগরিক মঞ্চ।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, গতকাল কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে টাউন হল মাঠে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার প্রধান অতিথি ছিলেন। সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাড়াও জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা বক্তব্য দেন। এর আগে কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা।

এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-ময়মনসিংহ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, সাতক্ষীরা, নেত্রকোনা, গাইবান্ধা, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বরগুনা, রাজবাড়ী, মাগুরা, দিনাজপুর ও নড়াইল জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতে ইসকনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন, পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।



মন্তব্য করুন