সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিএনপির ইন্ধনে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হচ্ছে। রংপুরের পীরগঞ্জের হিন্দু জেলেপল্লিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা তার উদাহরণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে বিএনপি এমন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিনে 'শহীদ শেখ রাসেল দিবস' উপলক্ষে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পীরগঞ্জের একটি জেলেপাড়ায় আগুন দেওয়া হয়েছে,

মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে গবাদি পশু পর্যন্ত প্রাণে রক্ষা পায়নি। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এ রকম নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। কাজেই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

রংপুরের জেলেপল্লিতে হামলাসহ সব সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় খোঁজ রাখছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, রোববার রাত থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের জেলেপল্লিতে হামলার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। সেখানকার প্রশাসন ও দলের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় পর্যায়েও নেতাকর্মীদের সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ১২ বছরে দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। এবার পরিকল্পিতভাবে একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্জন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষ ডালপালা শিকড়সহ উপড়ে ফেলাই হোক শেখ রাসেলের জন্মদিনের শপথ।

সম্প্রতি বাহাত্তরের সংবিধানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দলগতভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলের কেউ যদি দলের আদর্শবিরোধী বক্তব্য দেন, আচরণ করেন, তাহলে অবশ্যই তিনি শাস্তিযোগ্য হবেন।

এর আগে ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেও শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে দলীয় নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বনানী কবরস্থান মসজিদে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজ্জামেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর প্রমুখ।



মন্তব্য করুন