বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। কুমিল্লার ঘটনা বিরোধী দলের কাজ নয়। সরকারের মদদ ছাড়া এ ঘটনা ঘটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতার লোভে আওয়ামী লীগ যখন যা খুশি তাই করছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশের হিন্দু, বৌদ্ধসহ সবার সহযোগিতায় আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে পরাজিত করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়ে সরকার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যই সংঘাত সৃষ্টি করেছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের এই পরিকল্পনা। এ ন্যক্কারজনক ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার অবকাশ নেই। দেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে, এখন পর্যন্ত কোনো হামলার বিচার হয়নি। দুর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা তদন্তে সর্বদলীয়, সর্বধর্মীয় এবং সুশীল সমাজকে নিয়ে নাগরিক তদন্ত কমিশন গঠন করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি কখনও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে না। বিএনপি মানুষের শান্তি এবং ধর্মীয় অনুশাসনকে বিশ্বাস করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের নেপথ্যে সরকারি দল ও প্রশাসনের ইন্ধন রয়েছে। সংখ্যালঘু প্রতিরক্ষা সেল গঠন করে ওই সেলের মাধ্যমে এসব ঘটনার বিস্তারিত এবং প্রকৃত সত্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে উপস্থাপনের জন্য বিএনপির প্রতি প্রস্তাব দেন তারা।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, বিএনপি নেতা গৌতম চক্রবর্তী, গণফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।





মন্তব্য করুন