সাভারের আশুলিয়ায় ৫০০ টাকা চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় এবং বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ায় এক শিশুকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার রাতে বাইপাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার ভোরে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মো. ফেরদৌস (১২) শেরপুর জেলার সদর থানার মুন্সিপাড়া গ্রামের বাসচালক রইচ উদ্দিনের ছেলে। সে আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ বালুর মাঠ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনে হেলপার হিসেবে কাজ করত শিশুটি।

হত্যার ঘটনায় শাহ পরান হৃদয় নামে ক্ল্যাসিক পরিবহনের এক স্টাফকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পারভেজ নামে আরেক হেলপার পলাতক রয়েছে। নিহতের বড় বোন রুবিনা বেগম বলেন, তার বাবা আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক। ফেরদৌস একটু চঞ্চল প্রকৃতির হওয়ায় তিন দিন আগে তাকে আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনে কাজে পাঠানো হয়। গতকাল সকালে বাইপাইল এলাকার রাস্তায় তার লাশ পাওয়া যায়। বাসের হেলপার ও কন্ডাক্টর মিলে আমার ভাইকে হত্যার পর লাশ সড়কে ফেলে গিয়ে তারাই আবার পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ জানায়, রাত ১২টার দিকে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে বাস নিয়ে বাইপাইল পৌঁছায় কন্ডাক্টর হৃদয়, হেলপার পারভেজ ও শিশু ফেরদৌস। পরে গাড়ির মধ্যে তিনজনই ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম ভাঙলে হৃদয় তার পকেট থেকে ৫০০ টাকা খোয়া গেছে বলে জানায়। হৃদয়কে তখন ফেরদৌস জানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় পারভেজ তার পকেট থেকে ৫০০ টাকা চুরি করেছে। এতে পারভেজ ক্ষিপ্ত হয় ফেরদৌসের ওপর। এ নিয়ে হৃদয় ও পারভেজের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে ফেরদৌসকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পারভেজ। পরে পারভেজ ও হৃদয় মিলে লাশ সড়কে ফেলে রেখে পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর দেয়। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে হৃদয়কে আটক করলে সে পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বলে।

আশুলিয়া থানার এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হবে। অভিযুক্ত পারভেজকে আটকের চেষ্টা চলছে।






মন্তব্য করুন