পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, 'আমাকে আঘাত করলে আমি প্রত্যাঘাত করি। আমি স্ট্রিট ফাইটার। যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে লড়াই করি।' প্রচারে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হতেই গতকাল মঙ্গলবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতে জনসভা করেন মমতা। সেখানেই এ কথা বলেন তিনি। পরে বিধাননগরে আরেকটি জনসভা করেন।

গতকাল রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বারাসাত স্টেডিয়ামে জনসভা শুরু করেন মমতা। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাকে এত ভয় কীসের? সারাদেশের এজেন্সি নিয়ে নেমেছেন আপনারা; তাও আমাকে এত ভয়? ভারত সরকারের যত এজেন্সি, সবই আছে বিজেপির হাতে। তাও তারা হারবে।

মমতা বলেন, বিজেপির সিন্ডিকেট মোদি ও অমিত শাহ। জলপাইগুড়িতে গিয়ে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজবংশীদের নিয়ে কিছু বলছেন না। দার্জিলিংয়ে গিয়ে এনআরসির কথা অস্বীকার করেছেন। বলছেন, আমি মিথ্যা বলেছি। কিন্তু আমি মিথ্যা বলিনি। রাজবংশীদের কাছে গিয়ে তাদের মমতার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছেন। অন্য সময় মতুয়াদের কথা মনে পড়ে না?

অভিযোগের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৭২ ঘণ্টা আগে ভোটের প্রচার বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তার আগে আমাকে ২৪ ঘণ্টা প্রচার থেকে সরিয়ে রাখা হলো। মানে, আমাকে প্রচারই করতে দেওয়া হলো না। এর বিচার মানুষ করবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমি ভয়ে ঘরে ঢুকে যাওয়ার লোক নই। আমি লড়াই করব।

এর আগে নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার কলকাতায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে একাই ধর্নায় বসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন ঘণ্টা ১৮ মিনিট সেখানে অবস্থান করার সময় কয়েকটি ছবি আঁকেন তিনি। ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত সোমবার ২৪ ঘণ্টার জন্য মমতার প্রচার নিষিদ্ধ করে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এ নিষেধাজ্ঞাকে 'অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক' আখ্যা দেন তিনি।

মমতাকে প্রচারে নিষিদ্ধ করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কোনো মন্তব্য না করলেও ভারতের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী সংবিধান মানেন না। তার পদত্যাগ করা উচিত। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বিজেপির বিতর্কিত মন্তব্যকারী নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এক টুইটে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে বাধাদান আসলে বুঝিয়ে দিচ্ছে- পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি হারছে।

ভারতের রাজনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্নেষক যশোবন্ত সিনহা গতকাল এনডিটিভিতে লেখা এক নিবন্ধে মমতার প্রচার নিষিদ্ধে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। বিজেপি সরকারের সাবেক এ মন্ত্রী সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভোট চাওয়া অসাংবিধানিক। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ যখন সেগুলো করেন, তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। ধর্মীয় স্লোগান 'জয় শ্রীরাম' এখন বিজেপির স্লোগান। সংখ্যালঘুদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেব-দেবীর পোশাকের মতো পোশাক পরে অমিত শাহ ও বিজেপির অন্য নেতারা রোড শো করছেন। এসব কি ধর্মের ভিত্তিতে ভোট চাওয়া নয়? এসবের কারণে নির্বাচন কমিশন কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আট ধাপে ভোট গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেছেন যশোবন্ত সিনহা। নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, আট ধাপে ভোট করার অর্থ হলো, মোদি ও অমিতকে প্রচারের পর্যাপ্ত সুযোগ করে দেওয়া।

মন্তব্য করুন