চুরির অপবাদ দিয়ে নির্মমতা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

চুরির অপবাদ দিয়ে নির্মমতা

শুক্রবার কমলগঞ্জের ইসলামপুরে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে চলে নির্যাতন -সমকাল

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে মোবাইল চুরির অপবাদ তুলে শুক্রবার সকাল ৭টায় মুন্না পাশি (১২) ও জগৎ নুনিয়াকে (১৩) বাগান ফ্যাক্টরির সামনের গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে কয়েকজন মিলে বেধড়ক পিটিয়েছে। অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বিকেল ৩টায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কমলগঞ্জ সদর হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী ও নির্যাতিতদের পরিবার অভিযোগ করে বলে, শুক্রবার সকাল ৭টায় মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে চা বাগান হাসপাতালের কম্পাউন্ডার মামুনুর রশীদ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় শিশুদের। চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নারদ পাশিসহ কয়েকজন মিলে বাগানঘরে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক প্রহার করে। পরে কুরমা চা বাগান ফ্যাক্টরির সামনে গাছের সঙ্গে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পেছনে হাত নিয়ে বেঁধে রাখা হয়। মুন্নার মা জানান, ইউপি সদস্য দীপেন সাহা উপস্থিত থেকে তাদের পিটিয়েছেন। সঙ্গে ছিল চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি নারদ পাশি, সাদেকসহ অনেকে। বিকেল ৩টায় ছেলেদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের অবস্থার অবনতি হলে বিকেল ৪টায় মুন্না ও জগৎকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতিত মুন্নার মা আরও জানান, এ ব্যাপারে তারা থানায় মামলা দায়ের করবেন। ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে ইসলামপুর ইউপি সদস্য দীপেন সাহা বলেন, 'শিশুদের বেঁধে রাখা হয়েছিল, তবে নির্যাতন করা হয়নি। কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে মাত্র। বাগান ম্যানেজারের কথায় প্রথমে ছাড়তে পারিনি। পরে বিকেল ৩টার পর অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'

কুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, 'মোবাইল চুরির অপরাধে দুই শিশুকে আটকে রাখা হয়েছিল। কোনো নির্যাতন করা হয়নি। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।'

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, মোবাইল চুরির জন্য তাদের আটকানো হয়েছিল, তবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে শুনতে পেরেছি। এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল) আশরাফুজ্জামানের সঙ্গে কথা বললে তিনি এ ঘটনায় ত্বরিত ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান।