বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য আপত্তিকর ষড়যন্ত্রমূলক : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে 'আপত্তিকর' আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দেশবাসীকে গভীরভাবে হতাশ করেছে। সাংবিধানিক নিয়ম-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতা এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বিবৃতিতে বলেন, 'নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে আওয়ামী লীগকে বারবার ক্ষমতায় আনা এবং ওয়ান-ইলেভেন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে' বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম যে মন্তব্য করেছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) থেকে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধানগুলো বের করে এবং এর মৌলিক বিধান অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলায় আলাদা একটি আইন করতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনটিতে দেখা যায়, ইতোপূর্বে ব্যবহূত অধিকাংশ ইংরেজি ও বিদেশি শব্দের পরিবর্তে 'বাংলা শব্দ' অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্তির যে বিধান আরপিওতে রয়েছে তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের জন্যই এই সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এই বিধান কার্যকর করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অবস্থায়ও নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচন করতে চাইছে বলে মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব এখতিয়ার। এতে আওয়ামী লীগের কিছু বলার বা করণীয় নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের স্টেকহোল্ডার হিসেবে আওয়ামী লীগ জানতে পেরেছে, মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই নির্বাচন কমিশন করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও উপনির্বাচন করতে বাধ্য হচ্ছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, এসব নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। আওয়ামী লীগই সেখানে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিল। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই নির্বাচন করছে, এটি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এখানে আওয়ামী লীগের কী-ই বা করণীয় আছে!

ওবায়দুল কাদের বলেন, সব রাজনৈতিক দলকে বুঝতে হবে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও পৃথিবীর অনেক দেশে সাংবিধানিক বাধ্যবাধতার কারণে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রোয়েশিয়ায় নির্বাচন হয়েছে। ফ্রান্সে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে।

'ইসি বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে, সেনাবাহিনীকে অকার্যকর করেছে' বলে বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ কথা বলে বিএনপি মহাসচিব কী বোঝাতে চাইছেন তা বোধগম্য নয়। সেনাবাহিনীকে কীভাবে অকার্যকর করা হলো? সেনাবাহিনীর মতো রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা একটি জাতীয় বাহিনীকে নিয়ে এ ধরনের আপত্তিকর, দুরভিসন্ধিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য থেকে সবার বিরত থাকা উচিত। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে গর্বিত সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, মির্জা ফখরুলের কথায় মনে হচ্ছে, এদেশে ততদিন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনই বিএনপির দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ বিবেচিত হবে না, যতদিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে নির্বাচনে জেতার কোনো গ্যারান্টি না দেবে। মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে বিএনপি সে ধরনের একটি 'গ্যারান্টি ক্লজ' চাচ্ছে।

'দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে খালেদা জিয়াকে জেল খাটতে হয়েছে, তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হচ্ছে' বলে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া ফৌজদারি আইনের অধীন দেশের প্রচলিত আদালতের বিচারে প্রথমে অভিযুক্ত ও পরে দ প্রাপ্ত হয়ে কারাগারে ছিলেন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। বরং আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণ মানবিক কারণে সরকারের সর্বোচ্চ আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাদের আজীবন কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তারেক রহমানকে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাসনে পাঠায়নি। এদেশে 'দুর্নীতির প্রতিভূ'-খ্যাত ফ্রাঙ্কেস্টাইন তারেক জিয়া ওয়ান-ইলেভেন সরকারের কাছে 'আর কখনও রাজনীতি করব না' বলে মুচলেকা দিয়ে ও তাদের কাছে মাফ চেয়ে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে দেশ ত্যাগ করেছিলেন। তার এই তথাকথিত নির্বাসনে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। তবে তারেক জিয়া একজন দ প্রাপ্ত পলাতক আসামি, যার কয়েদি হিসেবে জেলে থাকার কথা। সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ কার্যকর করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।