হঠাৎ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড নাসিরনগর

শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, নিহত ১

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

হঠাৎ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড নাসিরনগর

গাছের মাথায় উড়ে গেছে ঘরের টিন। শনিবার ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের কয়েকটি গ্রাম-সমকাল

ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে নাসিরনগর উপজেলা সদরসহ কয়েকটি গ্রাম। প্রাণ গেছে আশুরাইল গ্রামের জিসু মিয়ার। বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান। ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। শনিবার সকাল ৮টায় উপজেলার ওপর দিয়ে এ ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে ঘরচাপা পড়ে আহত হয়েছেন ১৫ জন। ঝড়ের কবলে পড়ে আতঙ্কে মারা যাওয়া সোহেল আহমেদ ওরফে জিসু মিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

সরেজমিন দেখা গেছে, নাসিরনগর সদরের পশ্চিমপাড় (চেঙ্গাপুর) ও মহাখালপাড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ গ্রামের প্রায় ২০টি বাড়ির ঘরের চালা উড়ে গেছে। কারও আবার নলকূপ উপড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এদিকে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামের ৮ থেকে ১০টি ঘর এবং শ্রীঘর গ্রামের প্রায় ১৫টি ঘর ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে।

উপজেলার ডাকবাংলোতে গিয়ে দেখা গেছে, জেলেদের মাছ ধরার নৌকাসহ কয়েকটি যাত্রীবাহী (নদীর তীরে থাকা) নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে বিদ্যুতের খুঁটিও।

উপজেলা সদরের চেঙ্গাপুরপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত প্রণতী দাস বলেন, 'সহাল (সকাল) বেলা ঘুম থিক্কা উইঠ্যা অই অত বড় বিপদ। আমার সব লইয়া গেছেগা তুফানে (ঝড়ে)। এহন ক্যামনে কিতা করুম। করোনার লাইগ্যা রুজি রোজগার নাই। খামু কি আর ঘরই তুলুম ক্যামনে।' গৌর মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সবুজ দাস জানান, মন্দিরের দুটি ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে কয়েকটি গাছপালা।

শ্রীঘর গ্রামের মোজাম্মেল হক জুরান জানান, ঝড়ে আমার তিন ভাইয়ের ঘরসহ ১০টি ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী সমকালকে বলেন, ঝড়ের পর আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করছি। পাশাপাশি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ টাকা, ঢেউটিন এবং খাদ্য সহায়তার আশ্বাস দেন।