পাবনায় দুই আ'লীগ কর্মীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

আটক তিন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০

পাবনা অফিস

পাবনায় আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। শহরের দিলালপুরে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদ্ঘাটন না হতেই এই দুই হত্যাকাণ্ডে মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভোররাতে পাবনা সদর উপজেলায় ভাড়ারায় ৯০ বছরের আওয়ামী লীগ কর্মী হুকুম আলি খাঁকে নিজ বাড়িতে গুলি করে এবং আতাইকুলায় মজনু মিয়া (৪০) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা।

পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুটি ঘটনাই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। তবে পদ্মবিলার মজনু হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদের সঙ্গে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান আহমদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে সুলতানের বাবা লস্কর খাঁ ও চাচা আব্দুল মালেককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে নিহত হুকুম আলী একদিন আগে বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় জাসদ থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী সুলতানকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম দিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরদিনই হুকুম আলী এ ঘটনার শিকার হয়েছেন বলেও জানান পাবনা সদর থানার ওসি (অপারেশন) হাফিজুর রহমান।

এ বিষয়ে আবু সাঈদ খান সমকালকে বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। সুলতানরা শুধু শুধু আমাকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করে।

এ ব্যাপারে প্রধান অভিযুক্ত সুলতান ফেসবুক লাইভে বলেন, আমি সাঈদ বাহিনীর ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ফাঁসাতে সাঈদরা এ ঘটনা সাজিয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সমকালকে বলেন, দুটি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পেরেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. মোশারোফ হোসেন নিহত হুকুম খাঁ এবং মজনু মিয়াকে দলীয় কর্মী দাবি করে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।