নোয়াখালীতে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০     আপডেট: ০৭ জুন ২০২০

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীতে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক গৃহবধূকে স্বামীর সামনে থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ গতকাল শনিবার বিকেলে সাতজনের নাম উল্লেখ করে কবিরহাট থানায় মামল করেছেন। কবিরহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক ফজলুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী সুবর্ণচর উপজেলার চরবৈশাখী গ্রাম থেকে জমি কেনার উদ্দেশ্যে কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের পূর্ব নবগ্রামে খালার বাড়িতে আসেন ওই গৃহবধূ (২০) ও তার স্বামী (২৬)। কাজ শেষ না হওয়ায় তারা ওই বাড়িতে রাতে অবস্থান করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় সমাজ কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামের নেতৃত্বে ছয়-সাতজন গৃহবধূর আত্মীয়ের বাড়িতে আসে। এ সময় তারা ঘরে ঢুকে এই দম্পতির মধ্যে সম্পর্ক অবৈধ বলে তাদের বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে আটক করে বাড়ির পাশের একটি জায়গায় নিয়ে তাদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। এ সময় আব্দুস সাত্তার ও আবুল কালাম তাদের ছেড়ে দিতে ওই দম্পতির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। পরে ওই গৃহবধূর খালাতো ভাই সাত্তারের হাতে ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেন। আরও ২৫ হাজার টাকা পরে দেবে মর্মে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় সাত্তার। টাকা নিয়ে আব্দুস সাত্তার গৃহবধূকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে তার মেয়ের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তার স্বামী ও খালাতো ভাইকে পিটিয়ে জখম করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। গৃহবধূ অভিযোগ করেন, রাত ১২টার দিকে তাকে নেওয়ার জন্য তার খালাতো ভাই ও তার স্ত্রী এসেছে বলে আব্দুস সাত্তার তার মেয়ের বাড়ি থেকে তাকে বের করে নিয়ে যায়। কিছু পথ যাওয়ার পর একটি বেড়িবাঁধের ওপর পাঁচ-ছয়জন লোকের হাতে আমাকে ছেড়ে দেয় সাত্তার। ওই লোকগুলোর আচরণ দেখে আমি ঘটনা আঁচ করতে পেরে সাত্তারকে বাবা ডেকে আমাকে রক্ষা করতে বলি। কিন্তু সাত্তার আমাকে তাদের হাতে ছেড়ে দেয়। পরে রাস্তার পাশের একটি কলাবাগানে নিয়ে সাত্তারসহ সবাই আমাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। অচেতন অবস্থায় তারা রাত সাড়ে ৩টায় পার্শ্ববর্তী আজাদের দোকানের সামনের একটি বটগাছের নিচে আমাকে রেখে চলে যায়। সেখান থেকে লোকজনের সহযোগিতায় আমার স্বামী ও খালাতো ভাই আমাকে উদ্ধার করে।

কবিরহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলুল কাদের জানান, গণধর্ষণ ঘটনার অভিযোগ এনে ঘটনার তিন দিন পর ওই গৃহবধূ শনিবার বিকেলে থানায় এসে সাতজনের নামে লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হচ্ছে- কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামের আব্দুস সাত্তার, সোহালে, আবুল কালাম, রিপন, মাসুম, গিয়াস উদ্দিন ও নুর আলম।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কাজী আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনার পর থেকে আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।