মোহাম্মদ নাসিমের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এমপির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে তাকে।

সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ড আগের ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণের সময়সীমা বাড়িয়ে ৭২ ঘণ্টা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না বলেও জানিয়েছেন মেডিকেল বোর্ড ও চিকিৎসকরা।

গত শুক্রবার ব্রেইন স্ট্রোক ও পরে মস্তিস্কে সফল অস্ত্রোপচারের পর মোহাম্মদ নাসিমকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে ও ৪৮ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। গতকাল শনিবার সকাল থেকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে তার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ১৩ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হককে প্রধান করে গঠিত মেডিকেল বোর্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ূয়া, নিউরো বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবিএম আবদুল্লাহও রয়েছেন। বিকেলে এই মেডিকেল বোর্ড জরুরি বৈঠকে বসে মোহাম্মদ নাসিমের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন। এ সময় চলমান চিকিৎসা পদ্ধতি ঠিক আছে মত দিয়ে তাকে অস্ত্রোপচারের সময় থেকে মোট ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে হাসপাতাল চত্বরে সাবেক এই মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ূয়া বলেন, এই অবস্থাকে সার্বিকভাবে বলা যায় 'ডিপ ক্রিটিক্যাল'। আগামীকাল কী হবে, সেটি এখনই বলা যাবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যাবে তাকে আরও কী চিকিৎসা দিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে কনক কান্তি বড়ূয়া বলেন, তাকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেটা ঠিকই আছে। তাকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসাই দেওয়া হচ্ছে।

অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, করোনার পাশাপাশি তার আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও ব্লাডপ্রেশার ছিল। এর ওপর ব্রেইন স্ট্রোক করার কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরও অবস্থা এখনও ক্রিটিক্যাল। ডিপ কোমায় আছেন তিনি। কতটা সুস্থ হবেন তিনি, সময়েই তার জবাব পাওয়া যাবে।

মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে ও সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয় দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, স্ট্রোকের ফলে তার মস্তিস্কে এত বেশি রক্তক্ষরণ হয়েছে যে অস্ত্রোপচারের পরও মাথার মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। এমন অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলেই চিকিৎসকরা বলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার বাবার সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন জয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার নাসিমের ছেলে এবং অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রাজিউল হককে ফোন করে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।

দোয়া মাহফিল :নাসিমের রোগমুক্তি কামনায় গতকাল বিকেলে শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল করেছে আওয়ামী লীগ। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দোয়া মাহফিলে যুক্ত হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি মোহাম্মদ নাসিমের রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।

দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।