সবচেয়ে হালকা ডেজার্ট

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

ভোজনরসিকের কাছে খাবারের বৈচিত্র্য এক অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ধরা দেয়। পরিবেশন, সৌন্দর্য, আকার-আকৃতি ও স্বাদের বৈচিত্র্য তাদের বেশ টানে। খাবারের ব্যবসায় জড়িতরা এ বিষয়টি আরও ভালো জানেন। ভোজনরসিকদের দৃষ্টি কাড়তেই এবার তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ডেজার্ট (খাবারের শেষে মিষ্টি দ্রব্য)। ভরপেট খাওয়া-দাওয়ার পর এই ডেজার্ট ভোজনরসিকদের কাছে নিয়ে আসবে অন্য রকম অভিজ্ঞতা। মুখে দিলেন তো পলকেই জিভে মিশে যাবে। স্বাদ অনুভবের আগেই যেন শেষ! কারণ, এই ডেজার্ট দেখতে বেশ বড় মনে হলেও আদতে ফাঁপা। এর ওজন মাত্র এক গ্রাম। ডিমের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি।

ভাবছেন, এ এমন আর কী! এ ডেজার্ট তৈরির জটিল কারিগরি জানলে বুঝতে পারবেন, কেন এটা এত ব্যতিক্রম ও আকর্ষণীয়! এ ডেজার্ট তৈরি করা যেমন কঠিন, তেমনি ব্যয়বহুল।

লন্ডনভিত্তিক ডিজাইন স্টুডিও বোম্পাস অ্যান্ড পার-এর ডেজার্ট কারিগর ও বিজ্ঞানীদের একটি দল মিলে এই ব্যতিক্রমী ডেজার্ট তৈরি করেছেন। বিজ্ঞানীরা জার্মানির হামবুর্গের অ্যারোজিলেক্স গবেষণাগারের সঙ্গে যুক্ত। এখানেই বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ও কঠিন পদার্থ অ্যারোজেলের বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে এ খাদ্যবস্তু তৈরি করা হয়েছে।

১৯৩১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক রসায়নবিদ অ্যারোজেল তৈরি করেন। এ বস্তুটির ফাঁকা স্থানে থাকা পানি বের করে সে জায়গায় হাওয়া পুরে দেওয়া যায়। এতে বস্তুটি চুপসে যায় না। এভাবে ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ বাতাসযুক্ত ফাঁপা বস্তুতে পরিণত করা যায় অ্যারোজেলকে, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে হালকা কঠিন বস্তুতে পরিণত করেছে। এ কৌশলকে খাটিয়ে ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ডেজার্ট।

ডিমের সাদা অংশ বললেই এ গল্প শেষ হয়ে যায় না। এই সাদা অংশে যে দানাদার প্রোটিন রয়েছে, যাকে বলা হয় অ্যালবুমিনয়েড, একে আলাদা করে তার সঙ্গে চিনি যুক্ত করা হয়। এ থেকে বানানো হয় হাইড্রোজেল। এর পর একে একটি ছাঁচে ভরে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ও পানিতে ফেলা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণ পানি যুক্ত হয় হাইড্রোজেলে। এরপর তরল কার্বন ডাইঅক্সাইড দিয়ে পানি সরিয়ে ফেলা হয়। আর সুপার ক্রিটিক্যাল ড্রাইয়িং নামে পরিচিত এক জটিল পদ্ধতিতে সেই তরল কার্বন ডাইঅক্সাইডকে গ্যাসে পরিণত করা হয়। তৈরি হয় ফাঁপা ও বড় আকারের মাত্র এক গ্রাম ওজনের ডেজার্ট। সূত্র :অডিটি সেন্ট্রাল ডটকম।