পরীক্ষা ২২ নভেম্বর

অপেক্ষা শেষ হচ্ছে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আবু সালেহ রনি

দুই বছর অপেক্ষার পর অবশেষে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য প্রথম ধাপের পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। আগামী ২২ নভেম্বর প্রথম ধাপে এক ঘণ্টার নৈর্ব্যক্তিক (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে ওই দিন পরীক্ষা কেন্দ্র বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বার কাউন্সিল থেকে পাঠানো এক চিঠির সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পাঠানো চিঠিতে পরীক্ষা গ্রহণের সম্মতিপত্র, পরীক্ষার্থীপ্রতি সম্মানী হার এবং ৪৫ থেকে ৫০ হাজার পরীক্ষার্থীর সম্ভাব্য সিট প্ল্যান বার কাউন্সিল সচিবের কাছে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বার কাউন্সিলের সচিব জেলা জজ মো. রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'সম্প্রতি বার কাউন্সিলের এক সভায়  পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২২ নভেম্বরকে পরীক্ষা গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ধরে মৌখিক আলোচনার ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব এখনও পাইনি। জবাব পেলে সে অনুযায়ী পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।' এদিকে ২২ নভেম্বর পরীক্ষা গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে ফরম ফিলাপের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও এরই মধ্যে শুরু করেছে বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২১ জুলাই আইনজীবী তালিকাভুক্তির এ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার এই পরীক্ষা গ্রহণের কথা। বিধি অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই তারা নিম্ন আদালতে সরাসরি মামলা পরিচালনা করার সুযোগ পাবেন। এ জন্য প্রথম ধাপে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে শিক্ষানবিশ আইনজীবী নূ্যনতম ছয় মাস কাজ করার পর তাকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হয়। ওই পরীক্ষায় যারা পাস করেন তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পরে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এর পর আইনজীবী তালিকাভুক্তির চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। আইন পেশা পরিচালনার জন্য দেশে বার কাউন্সিলই সনদ প্রদানকারী একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২১ জুলাই সর্বশেষ বার কাউনিন্সলের নৈর্ব্যক্তিক (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৩৪ হাজার ৩৮৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ হাজার ৮৪৬ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হন। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয় ভাইভা পরীক্ষার ফলাফল। এতে সাত হাজার ৭৩২ জন উত্তীর্ণ হন। কিন্তু এর পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ না করায় অনেকের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, যাদের নতুন করে ফের রেজিস্ট্রেশন করতে হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সমকালকে বলেন, 'জাতীয় নির্বাচন ও বার কাউন্সিল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরুসহ বিভিন্ন কারণেই গত বছর বার কাউন্সিলের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এবার ২২ নভেম্বর পরীক্ষা গ্রহণের জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে।'

বার কাউন্সিল আগে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে নিজস্ব কার্যালয়ে থাকলেও গত এপ্রিলে ওই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে বার কাউন্সিলের কার্যক্রম রাজধানীর বাংলামটর ও পরীবাগে ভাড়া নেওয়া দুটি ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। বার কাউন্সিল সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা দিয়ে যারা উত্তীর্ণ হননি, এমন প্রার্থীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৫৭ জন। তাদের সঙ্গে গত তিন বছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাও নতুন ব্যাচে এনরোলমেন্ট পরীক্ষা দিতে রেজিস্ট্রেশন করেছে। সব মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবার ৪৫ হাজারেরও বেশি হবে।