পুরুষ এডিস মশাকে বন্ধ্যা করার উদ্যোগ

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ঢাকায় বিদেশি বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

বিবিসি

পুরুষ এডিস মশাকে বন্ধ্যা করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঢাকায় কাজ শুরু করেছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানসম্মত বিভিন্ন পদ্ধতি খতিয়ে দেখার অংশ হিসেবে এ কাজ শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তিনজন বিশেষজ্ঞ জেনেভা থেকে বুধবার ঢাকায় নেমেই বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল পুরুষ এডিস মশা বন্ধ্যা করার পদ্ধতি কয়েকটি দেশে কার্যকর করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে।

ঢাকার কাছে সাভারে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা কেন্দ্রে পুরুষ এডিস মশাকে বন্ধ্যা করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়ে একটি গবেষণা শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা গতকাল বৃহস্পতিবার সাভারে গিয়ে এ দেশের গবেষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

কীভাবে মশাকে বন্ধ্যা করা হয় :সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন পরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক নামে এ পদ্ধতিতে পুরুষ মশাকে র‌্যাডিয়ান বা রশ্মি দিয়ে বন্ধ্যা করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের সঙ্গে মিলনের পর স্ত্রী এডিস মশা ডিম পাড়লেও তাতে প্রজনন ক্ষমতা থাকে না। ফলে ডেঙ্গুর বাহকের প্রাদুর্ভাব কমে যায়। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, পদ্ধতিটি বাংলাদেশে ব্যবহার করা সম্ভব কি-না, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা তা যাচাই করে দেখার পর সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মশা গবেষক কবিরুল বাশার মনে করেন, 'বাংলাদেশের মতো জনবহুল একটি দেশে এ পদ্ধতি কার্যকর করা কঠিন। বাংলাদেশে এ পদ্ধতি সফল হবে বলে আমার মনে হয় না। ল্যাবরেটরিতে বন্ধ্যা করা পুরুষ মশা বাংলাদেশের প্রকৃতিতে টিকতে পারবে কি-না, তা নিয়ে গবেষণা দরকার। এ পদ্ধতি হয়তো কোনো দ্বীপ অঞ্চলে কার্যকর হয়। আমাদের মতো এমন একটা নগরে এ পদ্ধতি সফল হওয়া বেশ কঠিন।' তবে ড. বাশার বলেন, কাজ হয় কি-না, তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।

কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে জৈবিক ব্যবস্থাপনা বা বিজ্ঞানসম্মত কোনো পরিকল্পনা ছিল না। এখন ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছার কারণে মশা নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।