সোনারগাঁয় ইমামকে গলা কেটে হত্যা

রক্তমাখা চাপাতি উদ্ধার

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় মসজিদের এক ইমামকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত দিদারুল ইসলাম উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া এলাকার নারায়ণদিয়া বায়তুল জালাল জামে মসজিদের ইমাম। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে মসজিদে ইমামের শয়নকক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিকেলে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোপ থেকে হত্যায় ব্যবহূত একটি রক্তমাখা চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

হত্যাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ, ডিআইও-২ সাজ্জাদ রোমান, সহকারী পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) খোরশেদ আলম। এদিকে হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের ৬ সদস্যের একটি দল বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। দিদারুল ইসলাম খুলনার তেরখাদা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আবতাফ ফরাজির ছেলে। গত ২৬ জুলাই তিনি ওই মসজিদে যোগদান করেন।

মুসল্লিরা জানান, গতকাল ফজরের সময় ওই মসজিদে নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়নি। পরে মুসল্লিরা এসে ইমামকে না পেয়ে ইমামের শয়নকক্ষে ফ্যানের শব্দ শুনে এগিয়ে গেলে রুমটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলে ইমাম শুয়ে আছেন দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর ভেতর থেকে কোনো সাড়া না আসায় পুলিশকে খবর দেন মসজিদের মুসল্লিরা। ভোরে পুলিশ কক্ষটি খুলে প্রবেশ করে ইমামের মরদেহ উদ্ধার করে। ইমামের দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি পিঠের ওপর রাখা ছিল।

নারায়ণদিয়া গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার শহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার এশার নামাজের সময় ২৫-৩০ বছর বয়সী দু'জন অপরিচিত লোক তাদের সঙ্গে নামাজ পড়ে। মোনাজাতের আগেই তারা চলে যায়। হত্যাকাণ্ডে ওই ব্যক্তিদের কোনো যোগসাজশ আছে কি-না, তার তদন্ত হওয়া উচিত।

মসজিদের হিসাবরক্ষক শাহজাদা মিয়া জানান, মসজিদের টাকা-পয়সা বা মূল্যবান জিনিসপত্র লুট হয়নি।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যারহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) খোরশেদ আলম জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।