ফরিদপুরে যুবলীগ নেতার গুলিতে নিহত ২

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

ফরিদপুর অফিস ও নগরকান্দা প্রতিনিধি

ফরিদপুরের নগরকান্দার কাইচাইল ইউনিয়নের কাইচাইল মধ্যপাড়া মাদ্রাসা এলাকায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতার গুলিতে দু'জন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেলের এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। ওই যুবলীগ নেতার নাম হানিফ মিয়া হৃদয়। তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও উপজেলার কাইচাইল গ্রামের মোছলেম মিয়ার ছেলে।

নিহতরা হলেন- কাইচাইল ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ঠাণ্ডুর চাচা মৃত আবু বক্করের ছেলে রওশন আলী মিয়া (৫২) ও তার ভাতিজা রায়হান মিয়ার ছেলে ফোরকান হোসেন তুহিন  মিয়া (২৫)।

স্থানীয়রা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হানিফ মিয়া হৃদয়ের সঙ্গে কবির হোসেন ঠাণ্ডু মিয়ার বিরোধ চলে আসছে। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই। হানিফ ও তার ভাই উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মিয়া ঈদ উপলক্ষে ঢাকা থেকে মাইক্রোবাস নিয়ে গতকাল বিকেলে এলাকায় আসেন। এ সময় কবিরের সমর্থকরা হানিফ ও হাসানের মাইক্রোবাস এলাকায় ঢুকতে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে হানিফ মিয়া পিস্তল দিয়ে গুলি চালায়। গুলিতে আহতদের প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসক সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দু'জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত রায়হান উদ্দিন মিয়া, আনিস মীর, গোলাম রসুল বিপ্লব, গোলাম মওলা, আবুল কালামকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আনিস মিয়া, ফারুক মাতুব্বর, চুন্নু মিয়া, সুমন মিয়া ও বাবলু মিয়া নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

তবে এ ঘটনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

কবির হোসেন বলেন, হানিফ মিয়া ও তার ভাই হাসান মিয়া একটি মাইক্রোবাসে এলাকায় আসে। তার সমর্থকরা ওই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কোরবানির আয়োজন নিয়ে পরামর্শ করছিলেন। ওই সময় গাড়ির ভেতর থেকেই নির্বিচারে গুলি করে পালিয়ে যায়। হানিফ মিয়া নিজে গুলি চালান।

হানিফ মিয়ার ভাই ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মিয়া বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধের কারণে তারা দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া। তিনি, তার ভাইসহ পাঁচজন একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসেন। মাদ্রাসা এলাকায় এলে চেয়ারম্যানের চাচা রওশন, রুস্তম, রায়হান, মাওলা, বিপ্লবসহ ১০ থেকে ১২ জন তাদের বাধা দেয়। তারা গাড়ি ভাংচুর এবং তাদের ওপর লাঠি নিয়ে হামলা করে। তারাও পাল্টা হামলা করে। এ সময় গুলির ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় তিনি ও তার ভাই হানিফসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

নগরকান্দা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাইচাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দু'জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।