রংপুর-৩ আসন

এরশাদের দুর্গে দখল নিতে চায় আ'লীগ

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

মেরিনা লাভলী, রংপুর

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর-৩ (সদর) আসনটি কেবল শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। উপনির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবুও সেখানে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। উপনির্বাচনে অংশ নিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। এরশাদের আসনে আসীন হতে এবং নিজেদের ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে নগরী ও সদর এলাকার অলিগলি, হোটেল-রেস্তোরাঁ, রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত প্রাঙ্গণে এসব ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়েছেন তারা। সেইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রচারণা। সৎ, যোগ্য, পরিশ্রমী জননেতা উল্লেখ করে এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

রংপুর সদর আসনটি দীর্ঘদিন দখলে ছিল প্রয়াত জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের।
জেলার বাকি আসনগুলো জাতীয় পার্টিকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ দখল করে নিয়েছে। এবার এ আসনও দখলে নিয়ে রংপুরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে এরশাদের আসনটি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে জাতীয় পার্টি।

এরশাদকে রংপুরে সমাধিস্থ করার পর গত ১৬ জুলাই আসনটি শূন্য হওয়ায় গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে ওই আসনে উপনির্বাচন হবে। তবে এখনও তফসিল ঘোষণা হয়নি।

উপনির্বাচনে অংশ নিতে প্রচারে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবি পরিচালক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, জাতীয় পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক। এসব প্রার্থীর অনেকেই এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

এদিকে, সদর আসনটি দখলে নিতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে উপনির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। সদর আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে নিতে মহানগর ও ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটিসহ শক্তিশালী কেন্দ্র কমিটি গঠন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২০ ও ২১ জুলাই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক রংপুর মহানগর যুবলীগের সম্মেলন ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশ দেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক নেতাদের বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রস্তুতি নেব। নির্বাচনের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হলো মূল পিলার। নির্বাচনকে ঘিরে মহানগর কমিটি, ওয়ার্ড কমিটিকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে কমিটি গঠন করতে হবে।

অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা আসনটি হাতছাড়া করতে নারাজ। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের সতর্কতার সঙ্গে প্রার্থী বাছাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূলের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও রাজনৈতিক দুটি বিষয়ই ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু পারিবারিক বলয় রাজনীতিতে খুব একটা ভালো অবস্থান করতে পারেনি, তাই দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেছেন, এরশাদের আসন জাতীয় পার্টির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে অতীতে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন হয়েছে। উপনির্বাচনেও সেভাবেই হবে। প্রার্থীর ব্যাপারে পারিবারিক ও রাজনৈতিক দুটি বিষয়ই সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, রংপুরে উপনির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়ার খবরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নির্বাচন ঘিরে প্রচার শুরু না করলেও উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হোক, এমনটাই চান তারা। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্‌ফর হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত কারণে এ আসনে জাতীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে পিপলস পার্টির রিটা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, বিএনপি থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে, তাকে নিয়েই কাজ করব। তবে এবারও যদি রিটা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তার পক্ষে কেউ মাঠে থাকবে না।

ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সদর আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি- দুটি দলই আসনটি দখলে কাজ শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ আসনটি দখলে নিয়ে এ জেলায় নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, ঠিক তেমনটি এরশাদের মৃত্যুতে শোক ও এরশাদপ্রীতি কাজে লাগিয়ে আসনটি নিজ ঘরে রাখতে মরিয়া জাপা। অন্যদিকে, নানামুখী চাপে থাকা বিএনপিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে বেশ বেগ পেতে হবে।