বরগুনায় রিফাত হত্যা

হাইকোর্টে মিন্নির জামিন আবেদন আজ শুনানি

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল সোমবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না এ আবেদন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম মাইনুল ইসলাম ও মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। হাইকোর্ট বেঞ্চ বিষয়টি আমলে নিয়ে আজ মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেন।

আবেদন উপস্থাপনের সময় আদালতে জেড আই খান পান্না বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এ মামলায় মিন্নি চাক্ষুষ সাক্ষী। অথচ মামলার ১২ নম্বর আসামির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আসামি করা হয়েছে। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানির জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রেজাউল করিম। তিনি আদালতে বলেন, এ মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে শুনানি করবেন। এ জন্য সময় প্রয়োজন। এরপর হাইকোর্ট মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রাখেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমত মিন্নি একজন নারী এবং তিনি অসুস্থ। তাছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় তার জামিন পাওয়ার অধিকার আছে। আর তিনি এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। ষড়যন্ত্র করে তাকে গ্রেফতার ও আসামি করা হয়েছে। এসব যুক্তি দেখিয়ে আদালতের কাছে মিন্নির জামিন চাওয়া হয়েছে।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। পরে গুরুতর আহত রিফাতকে ওই দিনই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় ১৬ জুলাই মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইন্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

পরদিন মিন্নিকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে জামিন চেয়ে আবেদন করলে গত ২১ জুলাই বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালত তা নাকচ করেন। ২৩ জুলাই বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিন্নির পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। ৩০ জুলাই শুনানি নিয়ে তাও নামঞ্জুর করেন আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।