ধর্ষক-মাদক ব্যবসায়ীসহ তিন জেলায় নিহত ৫

'বন্দুকযুদ্ধ'

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রোববার রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহে ধর্ষণ মামলার আসামিসহ দু'জন, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই মাদক কারবারি এবং হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নিহত হয়েছে ডাকাত সর্দার। এসব ঘটনায় বিজিবি ও পুলিশের অন্তত ১১ সদস্য আহত হয়েছেন। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ময়মনসিংহ :ফুলবাড়িয়া থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, তরুণী গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম (২০) পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছে। সে ফুলবাড়িয়া উপজেলার কৈয়ারচালা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।

গত ৩ আগস্ট এক তরুণীকে তিন বখাটে ধর্ষণ করে। ধর্ষকদের ধরতে রোববার রাতে উপজেলার কালাদহ ঈদগাহ এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এতে জহিরুল আহত হয়। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানার এসআই আকবর ও কনস্টেবল হেলিম আহত হয়েছেন।

এদিকে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, সদর উপজেলার চরপুলিয়ামারী এলাকায় 'বন্দুকযুদ্ধে' জনি মিয়া (২৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সে নগরীর পাটগুদাম এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে। জনির বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১১টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ডিবির এসআই আকরাম ও কনস্টেবল মতিউর রহমান।

টেকনাফ (কক্সবাজার) :টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' দুই মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা। উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের ২ নম্বর স্লুইসগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি জানায়, নিহতরা হলো হোয়াইক্যং নয়াবাজার সাতঘরিয়াপাড়ার জলিল আহমদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দিলু (৩০) এবং উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নুরুল ইসলাম (২৭)। ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, দুটি দেশি অস্ত্র, চার রাউন্ড গুলি ও দুটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সল খান জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালান আসার খবরে বিজিবির একটি দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় কয়েকজন পাচারকারী ইয়াবা লেনদেন করছিল। পাচারকারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালায়। তখন বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে অন্য মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে ওই দু'জনকে উদ্ধার করে কক্সবাজারে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিজিবির চার সদস্য আহত হয়েছেন।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) :চুনারুঘাটে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের অভিযানে 'বন্দুকযুদ্ধে' ডাকাত সর্দার সোলেমান মিয়া (৩০) নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন তিন পুলিশ সদস্য।

নিহত সোলেমানের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায়। চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ মো. নাজমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।