জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা নিধনে রসদ জুগিয়েছে সেনাদের 'বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য'

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, মিয়ানমারের 'সম্পদশালী ও ক্ষমতাধর' সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দরকার। তাদের 'বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য' রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মমতায় রসদ জুগিয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, দেশটির বেসামরিক কোম্পানিগুলো সেনাবাহিনীর বিপুল অর্থনৈতিক শক্তিমত্তার কাছে নিষ্প্র্রভ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। খবর এএফপির।

গতকাল সোমবার জাকার্তায় অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসম্যান বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে নজরদারির ঊর্ধ্বে থেকে তাদের অভিযান চালানোর সক্ষমতা কমবে এবং এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনও হ্রাস পাবে।

২০১৭ সালের শেষের দিকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অপরাধে এই কমিটি গত বছর মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন জেনারেলদের বিচারের আহ্বান জানিয়েছিল। ওই অভিযানের ফলে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান কমিটি বলছে, মিয়ানমারের স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্ব ছাড়াও অন্তত ১৫টি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যৌথ ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। এছাড়া আরও ৪৪টি কোম্পানির বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে তাদের সঙ্গে। তদন্ত কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার সিদোতি বলেন, 'এই সংখ্যা আসলে আইসবার্গের চূড়া মাত্র।'

সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত দুটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী হলো মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেড ও মিয়ানমার ইকোনমিক করপোরেশন। এছাড়া আরও কিছু সাবসিডিয়ারি ও সহযোগী কোম্পানির মাধ্যমে দেশটির জেড থেকে রুবি, রিয়েল এস্টেট থেকে পর্যটন- সবকিছুতেই ভাগ বসায় সেনাবাহিনী। তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দুটি বড় ব্যাংক। তবে জনগণের কাছে তথ্য লুকানোর জন্য এসব কোম্পানি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করে না। সেনাবাহিনীর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য জবাবদিহি ও নজরদারির বাইরে থাকে বলে জানান জাতিসংঘের তদন্তকারীরা।

১১১ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চলাকালে দেশটির বেশ কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানি সেনাবাহিনীকে ১ কোটি ডলার অনুদান দেয়। পরে এসব কোম্পানি রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ির চিহ্ন মুছে ফেলতে সেনাবাহিনীর নেওয়া প্রকল্পেও অর্থ জোগান দেয়।

সিদোতি বলেন, এত বেশি কোম্পানি অনুদান দিয়েছে যে তিনি তা দেখে মর্মাহত হয়েছেন। বিষয়টি এমন নয় যে ব্যবসায়ীরা জানতেন না কী ঘটছে। তারা জানতেন। এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চালানোর দাবি করেছে কমিটি। মিয়ানমারে পুরোপুরি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞারও দাবি তাদের। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগ।