প্রকৃতি

বিপন্ন বনখেজুর

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯

মোকারম হোসেন

২০১৭ সালের দিকে উদ্ভিদবিষয়ক একটি ফিল্ডগাইডের জন্য ছবি ও তথ্য-উপাত্তের খোঁজে দেশের বিভিন্ন বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। কিন্তু ফিল্ডগাইডের চেকলিস্টে বনখেজুরের নাম থাকলেও কোনো ছবি ছিল না আমার কাছে। তবে বনখেজুর যে শালবনে হয়, সে কথা জানা থাকলেও জানা ছিল না গাছটির অবস্থান। কিন্তু গাছটির তথ্য ও ছবি ফিল্ডগাইডে সংযুক্ত করতে চাই। বোটানিস্ট শামসুল হক জানালেন, ঢাকার অদূরে গাজীপুরের শালবনে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু গাছ আছে। গাছটির সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করে একদিন বৃক্ষপ্রেমী যায়েদ আমীনকে নিয়ে দেখতে যাই। খানিক খোঁজাখুঁজির পর পেয়েও যাই। আসলে বন বলতে যা বোঝায় সেখানে তেমন কিছুই ছিল না। নতুন প্রজন্মের ৮-১০ ফুট উঁচু কয়েকটি শালগাছ ছড়ানো, পরিচ্ছন্ন বনতল, তেমন কোনো তৃণ-গুল্ম নেই। ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায়, বনে আগুন লাগানো হয়েছিল। এতসব উপদ্রবের মধ্যেই খেজুরগাছগুলো টিকে আছে। তবে সংখ্যায় একেবারেই নগণ্য। কোনো কোনোটিতে ফলও ধরেছে। বেশ কিছু ছবি তুললাম। শঙ্কিতও হলাম, নিকট ভবিষ্যতে গাছগুলো হয়তো নিশ্চিহ্ন হবে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন গাছটিকে বিপন্ন  (VU) হিসেবে শনাক্ত করেছে।

বনখেজুর  (Phoenix acaulis) ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলার শালবনে দেখা যায়। এটি কাণ্ডবিহীন পামগাছ। পাতা সরু ও চোখা। স্ত্রী ও পুরুষ ফুল পৃথক। ফল একবীজ বিশিষ্ট। বীজ থেকে চারা হয়। গাছের গড়ন, ফল ও পাতা দেশি খেজুরের মতো হলেও তুলনামূলকভাবে বেশ ছোট। ফুল ও ফলের মৌসুম বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ। ফল পাখিদের প্রিয়। ভারতের বিহার এবং ছোট নাগপুর অঞ্চলে দেখা যায়। গাছটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। শালবনের যেসব এলাকায় বনখেজুর দেখা যায় সেসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।