'কুয়েট রেডিওতে স্বাগত...'

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯

হাসান হিমালয়, খুলনা

'কুয়েট রেডিওতে স্বাগত...'

কুয়েট রেডিওর বর্তমান টিম- সমকাল

'হাটে-মাঠে-গঞ্জে-ঘাটে, হলের রুমে-মেসের ছাদে, যে যেখানে আছেন, সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি কুয়েট রেডিওতে- আমি আর জে তুষার। আমাদের এখনকার শো মায়া ফানুসে। আসুন, আমরা পরিচিত হয়ে নিই আমাদের আজকের অতিথিদের সঙ্গে...।'

বাণিজ্যিক ধারার এফএম রেডিওর পেশাদার জকিদের মতো যখন অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছিল, ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ৮টা। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) লালন শাহ হলে চলছিল 'কুয়েট রেডিও'র জনপ্রিয় শো মায়া ফানুস। রাত ৮টা ৫ মিনিটের মধ্যেই অসংখ্য আইপি থেকে রেডিওতে সংযুক্ত হতে দেখা গেল। রাত ১০টায় অনুষ্ঠানটি যখন শেষ হলো, সংযুক্ত আইপির সংখ্যা ৮৩টি। অর্থাৎ প্রতিটি আইপিতে যদি নূ্যনতম পাঁচজনও রেডিওটি শোনেন, তখন পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি শুনছিলেন প্রায় পাঁচশ' শিক্ষার্থী। বলা হচ্ছে 'কুয়েট রেডিও'র কথা। এটি কুয়েটের শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রথম অনলাইন রেডিও। কুয়েটের শিক্ষার্থীরাই এটি তৈরি করেছেন। নিজেরাই চাঁদা তুলে যন্ত্রপাতি কিনেছেন, নিজেরাই ভাগ করে সপ্তাহে তিন দিন ছয়টি অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর মূল শ্রোতা বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থী ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। অবশ্য নিজস্ব অ্যাপ ও ইউটিউব চ্যানেল চালুর পর থেকে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকেই রেডিওটি শোনা যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সব নোটিশ এবং অনুষ্ঠানের তথ্য কুয়েট রেডিওতে আগে সরবরাহ করে। কোনো শিক্ষার্থীর সাহায্য বা যে কোনো বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয় রেডিওটির কাছে।

কুয়েট রেডিওর পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ১৫তম ব্যাচের শিল্প প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র অপূর্ব দাশ জানালেন, ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মৃন্ময় মণ্ডল তুষার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি রেডিও তৈরির উদ্যোগ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সম্প্রচারের অনুমতি দেয়। মৃন্ময় মণ্ডল ও তার কিছু সহপাঠীর যৌথ প্রচেষ্টা এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবর রাত ১০টা ১ মিনিটে প্রথম কুয়েট রেডিওর সম্প্রচার শুরু হয়।

বর্তমানে সপ্তাহে তিন দিন বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার চার ঘণ্টা করে রেডিওর সম্প্রচার চলছে। তবে সেমিস্টার ফাইনালের সময় কুয়েট রেডিও বন্ধ থাকে। রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত একটি এবং রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আরেকটি অনুষ্ঠান হয়।

কুয়েট রেডিওর আর জে নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী আবীর দে জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিবছর আর জে হান্ট প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রেডিও পরিচালনার জন্য সদস্য সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে ২৭ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও ১০ জন মেয়ে। অপূর্ব দাশ হচ্ছেন বর্তমান সভাপতি। এ ছাড়া কুয়েট রেডিওর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মৃন্ময় মণ্ডল তুষার ও সাবেক সভাপতি ফাইজা হোসেন অন্বেষা পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। এ ছাড়া যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. আবদুল হাসিব মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও রেডিওর আর জে মুশফিকুর রহমান জানান, প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীরা সবাই বসে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা সাজান। সেখানে সবাই উন্মুক্ত মতামত দেন। 'বসিং' বিষয়টা আমাদের রেডিওতে নেই।

রেডিওর আর জে তনুশ্রী দাস তিথি বলেন, বর্তমানে আমাদের একটি ভালো ওয়্যারলেস মাইক, একটি আধুনিক মিকচার প্রয়োজন। সবার আগে প্রয়োজন একটি জায়গা। আর ব্যয় নির্বাহের জন্য স্পন্সরও সমানভাবে জরুরি।