দক্ষিণ রাখাইনেও নিধন অভিযানে মিয়ানমার সেনা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

উত্তর রাখাইনে ভয়াবহ সহিংসতার মধ্যেই দক্ষিণ রাখাইনের কিয়াউকপাইয়ু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিধন অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে দানিয়াওয়াডি আঞ্চলিক নৌ কমান্ড ঘাঁটির নিরাপত্তার জন্য আশপাশের গ্রামের লোকদের ধান চাষ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবর মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে চার কিলোমিটার পূর্বদিকে ওই নৌঘাঁটি অবস্থিত। সামরিক শাসনামল থেকেই সিত টাও ও থিত পোকে তাউং গ্রাম ঘিরে রাখা ছিল। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আঞ্চলিক নৌ কমান্ড ছাড়াও জুনের শেষের দিকে লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

চীন ও মিয়ানমার সরকার কিয়াউকপাইয়ু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ২০১৮ সালের নভেম্বরে চুক্তিবদ্ধ হয়। এর মধ্য দিয়ে চীন বঙ্গোপসাগরে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার সুযোগ পাবে, যা দেশটির আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ।

নৌঘাঁটি থেকে এক কিলোমিটার দূরের সায় মাও গ্রামের বাসিন্দা জানান, ২৭ জুন সেনাবাহিনীর দল গ্রাম পাড়ি দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ছবি তুলেছিলেন। বিষয়টি এক সেনাসদস্য বুঝতে পারায় গ্রামে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার দু'দিন পর নৌঘাঁটির  কমান্ডার গ্রামের সরকারি কর্মকর্তাদের তলব করে সভা করেন এবং সেনাদের ছবি না তোলার জন্য নিষেধাজ্ঞা দেন।

তলবকারী সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন হরুক চুং গ্রামের কর্মকর্তা ইউ মুং চান নু। তিনি বলেছেন, নৌ কমান্ডার ১০টি গ্রামের কৃষকদের ধান চাষ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, গ্রামে নতুন মুখ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে নৌ কমান্ডকে জানাতে বলেন।

সায় মাও, সিত টাও ও সাই ক্রোন গ্রামের কয়েক নেতা এ সময় কমান্ডারকে ধান চাষের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে নৌবাহিনীর জাহাজের পরিণতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বলেন। তার দাবি, ধানের ক্ষেত থেকেই হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলায় তাদের দুই জুনিয়র অফিসারের মৃত্যু হয়েছে। কমান্ডার হুঁশিয়ারি দেন, একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে তারা (গ্রামের বাসিন্দা) সমস্যায় পড়বেন।

সরকারি কর্মকর্তা ইউ মুং চান নু বলেন, নৌ কমান্ড ঘিরে ৫০ একরের বেশি চাষযোগ্য জমি আছে। তিনি আরও বলেন, এ এলাকায় আমার জীবনে কোনোদিন সম্পূর্ণরূপে অস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনী মোতায়েন দেখিনি। সেনাসদস্যরা গ্রামে প্রবেশ করলেও নৌ কমান্ডার গ্রামের সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন না হতে এবং না পালানোর জন্য বলেছেন। তার এমন নিশ্চয়তার পরও গ্রামবাসী অনেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ভাইস নিউজ জানিয়েছে, এদিকে রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতিকে নাৎসি বাহিনীর দখল করা ইউরোপের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ তদন্তে গঠিত জাতিসংঘ তদন্ত দলের সদস্য ক্রিস্টোফার সিদোতির এ তুলনা করেন।

রাখাইনে বসতিগুলোর পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই শহুরে বস্তিগুলো নাৎসিদের দখলে থাকা ইউরোপে বসবাস করা ইহুদিদের মতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দখল করা এলাকায় বসবাসকারী ইহুদিদের জন্য ক্যাম্প স্থাপন করে জার্মান একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি পার্টি। কনসেনট্রেশন ক্যাম্প নামে পরিচিত এসব বসতিতে নির্মম নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।