মহাসড়ক অবরোধ খুনির বিচার দাবি

কালিয়াকৈরে কলেজছাত্রী লিজা হত্যা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

মহাসড়ক অবরোধ খুনির বিচার দাবি

কালিয়াকৈরে কলেজছাত্রী লিজা হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা- সমকাল

কোনাবাড়ী কেমব্রিজ কলেজের শিক্ষার্থী শারমীন আক্তার লিজার হত্যাকারী মোস্তাকিম রহমান রাজুর ফাঁসি দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। ওই সময় শিক্ষার্থীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী বাসস্টেশন এলাকা দুপুর ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।

জানা গেছে, সকাল থেকে কেমব্রিজ কলেজ, লিংকন কলেজ, জেনুইন কলেজসহ কমপক্ষে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ডসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী বাসস্টেশন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। তারা দ্রুত লিজার হত্যাকারী মোস্তাকিম রহমান রাজুর সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি দাবি করেন। খবর পেয়ে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীও বিক্ষোভে যোগ দেন। বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন চলাকালীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন কোনাবাড়ী কেমব্রিজ কলেজের সভাপতি মো. খলিলুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা সোলেমান মিয়া, আনিসুর রহমান আনিস মাস্টার, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বানেজ উদ্দিন, লিজার বড় ভাই সাদিম আহম্মেদ সুজনসহ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানার ওসি এমদাদ হোসেন দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

লিজার বড় ভাই সাদিম আহম্মেদ সুজন বাদী হয়ে গতকাল দুপুরে মোস্তাকিমসহ পাঁচজনের নামে একটি মামলা করেছেন। অন্য আসামিরা হলো- শামীম (২০), হায়দার আলী (২০), জুয়েল (১৯) ও রোমান মিয়া (২০)। পুলিশ গ্রেফতার মোস্তাকিমকে গতকাল গাজীপুর আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে।

বুধবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে লিজার লাশ তাদের গ্রামের বাড়ি আমবাগে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। লিজার বাবা সাফি ড্রাইভার ও মা তাসলিমা আক্তার বারবার অজ্ঞান হয়ে যান। রাত ১১টার দিকে কয়েক হাজার মুসল্লি জানাজায় অংশ নেন। পরে তার লাশ দাফন করা হয়।

লিজার মা তাসলিমা আক্তার জানান, গত রোববার দুপুরের দিকে মোস্তাকিম রহমান রাজু বাড়িতে এসে লিজাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরদিন সোমবার সকালে ফোন করে জানতে চায়, লিজাকে তার সঙ্গে কেন বিয়ে দেওয়া হবে না। পরে সে লিজাকে বাঁচতে দেবে না বলেও হুমকি দেয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী খাদিজা জানান, 'আমরা পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরছিলাম। কোনাবাড়ীর কাঁচাবাজার এলাকায় এলে মোস্তাকিম পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি ধারালো চাকু লিজার বুকে ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় আমি লিজাকে বাঁচানোর জন্য আশপাশের লোকজনকে চিৎকার করে আকুতি জানালেও কেউ এগিয়ে আসেনি। লিজা ঘটনাস্থলেই প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় পড়ে ছিল। পাশের পপুলার ক্লিনিকে নিয়ে গেলেও সেখানকার লোকজন পুলিশ কেস বলে চিকিৎসা দেয়নি।

এদিকে মোস্তাকিম পুলিশের হাতে গ্রেফতারের খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। গতকাল সকালে তাদের বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়।