সেই বাবার পাশে অনেকেই

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

সেই বাবার পাশে অনেকেই

সমকাল কার্যালয়ে সপরিবারে নিখিল চন্দ্র দাস- সমকাল

দিন-রাত পরিশ্রম করেও মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল নিখিল চন্দ্র দাসকে। প্রতিনিয়ত শঙ্কায় থাকতে হতো- কখন যেন মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তার সেই শঙ্কা এখন কেটে গেছে।

চার মেয়ের পড়াশোনার জন্য লড়াই করা নিখিল চন্দ্র দাসের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। তাদের কেউ করেছেন নগদ সহায়তা, কেউবা প্রতি মাসে নিখিলের মেয়েদের পড়াশোনার খরচ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চার মেয়ে ও স্ত্রী ছায়া রানী দাসকে সঙ্গে নিয়ে সমকাল কার্যালয়ে এসেছিলেন নিখিল। একই সময় তাদের সহযোগিতা করতে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রিয়াজুল হক, ব্যাকবোন লিমিটেডের এমডি আব্দুল মতিন শেখ (মাহিন) ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ শাফায়াত আলম (সানি)।

তাদের মধ্যে অধ্যাপক মো. রিয়াজুল হক নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নিখিলের মেয়েদের পড়াশোনার জন্য আগামী পাঁচ বছর প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। আব্দুল মতিন শেখও (মাহিন) নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দুই বছর প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ ছাড়া শেখ শাফায়াত আলম (সানি) নিখিলের বড়  মেয়ে সুইটির স্নাতকোত্তর শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা করার অঙ্গীকার করেন।

সবার সহায়তার আশ্বাস পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ছায়া রানী দাস। কাঁদতে কাঁদতে সবাইকে ধন্যবাদ দেওয়ার পাশাপাশি মেয়েদের ঠিকমতো পড়াশোনা করানো ও বাল্যবিয়ে না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। তার মেয়েরাও সবাইকে কথা দেন পরীক্ষায় আরও ভালো করার।

সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই সমকাল এ ধরনের মানবিক রিপোর্ট করে থাকে। আমরা চাই এ ধরনের সংগ্রামী মানুষের সহায়তায় সমাজের শুভবোধসম্পন্ন সব মানুষ এগিয়ে আসবেন।

এ সময় টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এস এম শাহাব উদ্দিন, উপ-সম্পাদক আবু সাঈদ খান, বার্তা সম্পাদক মশিউর রহমান টিপু, প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব নূর, বার্তা সম্পাদক (অনলাইন) গৌতম মণ্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৬ মার্চ সমকাল অনলাইনে '৪ মেয়ের পড়াশোনার জন্য লড়াই করা এক বাবার গল্প' শিরোনামে নিখিলকে নিয়ে সাজ্জাদ হোসেনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর অনেকে সমকালের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিখিলকে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন মন্ত্রীও এই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।