মাদ্রাসায় বেত্রাঘাত

শিক্ষকের মাথা ফাটাল আহত শিক্ষার্থীর মামা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদ্রাসায় এক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করে গুরুতর আহত করেছেন শিক্ষক। এতে তার চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঘটনার আকস্মিকতায় হাতুড়ির আঘাতে শিক্ষকের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন ওই ছাত্রের ক্ষুব্ধ মামা। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রের মামা পলাতক।

পৌর এলাকার কাঁকনহাটি এলাকার হামিদিয়া হাফিজিয়া নুরানি মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগে পড়ে জাওয়াদ হোসেন রামিম (১১)। সে ময়মনসিংহ সদর এলাকার চরগোবিন্দপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, গতকাল ভোর ৪টার দিকে সহপাঠীদের সঙ্গে রামিমকে পড়ার জন্য ডেকে তোলা হয়। পড়তে পড়তে এক পর্যায়ে রামিম ঘুমিয়ে পড়লে মাদ্রাসাটির পরিচালক ও শিক্ষক ফজলুল হক তাকে বেত দিয়ে বেদম পেটানো শুরু করেন। নিজেকে রক্ষা করতে ছটফট করতে থাকা রামিম বেতটি ধরতে চাইলে শিক্ষকের হাতের আঙুল রামিমের ডান চোখে আঘাত করে। সকাল ৯টার দিকে রামিম মাদ্রাসা সংলগ্ন তার মামা বাড়িতে চলে যায়।

রামিমের ওই অবস্থা দেখে মামা শামিম মিয়া দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। রামিমের অবস্থা দেখে সেখানকার সবাই শিক্ষককে ভর্ৎসনা করতে শুরু করেন। ওই সময় হঠাৎ শিক্ষক ফজলুল হক রামিমের জন্য ওষুধ কিনে দিতে এলে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির মামা শামিম হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে বসেন শিক্ষকের মাথায়। হাতুড়ির আঘাতে মাথা ফেটে গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফজলুল হককে নিয়ে এলাকায় অন্তত ছয়টি সালিশ এর আগে হয়েছে। তার জমির ধান না কাটা, কাজ না করাসহ নানা কারণে শিক্ষার্থীদের মারধর করা হতো মাদ্রাসাটিতে।

শিক্ষক ফজলুল হক রামিমকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ঈশ্বরগঞ্জ থানার একদল পুলিশ। থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সজীব ঘোষ বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।