মামলার তদন্ত ঝুলিয়ে রেখেছে পুলিশ !

বগুড়ায় কিশোরী ধর্ষণ ও নির্যাতন

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭      

বগুড়া ব্যুরো


বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর কিশোরী ধর্ষণ এবং তাকে ও তার মাকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার মামলায় আড়াই মাসেও অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকার পরও আলোচিত মামলাটি তদন্তের নামে কেন এই দীর্ঘসূত্রতা, সে বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো জবাব মিলছে না।
মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহারভুক্ত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার ও তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্ত্বেও তদন্ত আটকে থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে কিশোরী ধর্ষণের ওই ঘটনাটিকে 'প্রেমঘটিত' দাবি করার মধ্য দিয়ে জনমনে সেই সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ভালো কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৭ জুলাই বগুড়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে শ্রমিক লীগ বগুড়া শহর শাখার আহ্বায়ক (বর্তমানে বহিস্কৃত) তুফান সরকার। ঘটনার ১০ দিন পর ওই কিশোরী এবং তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দু'জনের মাথা ন্যাড়া করে বেধড়ক পেটানো হয়। এ ঘটনায় ২৮ জুলাই মামলা হয়। পুলিশ পরে তুফান সরকার ও তার স্ত্রী এবং এজাহারভুক্ত ৯ আসামিসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে।
\হপুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসামি গ্রেফতার, জবানবন্দি গ্রহণ এবং ধর্ষণের আলামত প্রাপ্তির কথা উল্লেখসহ ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন- সব কিছুই মিলেছে মামলার ৭ দিনের মধ্যে। সে হিসাবে খুব দ্রুতই তদন্ত কাজ শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে- এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু তা হয়নি।
মামলার প্রধান আসামি তুফান সরকার শ্রমিক লীগের শহর কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। অপর আসামি তুফানের স্ত্রীর বড় বোন মার্জিয়া হাসান রুমকি বগুড়া পৌরসভার আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর। গত ১৩ আগস্ট বগুড়ায় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভায় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন কিশোরী ধর্ষণের ঘটনাটি 'প্রেম ঘটিত' বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ওই কিশোরী এবং তার মায়ের চুল কাটার ঘটনাটি কোনো পুরুষ ঘটায়নি বলেও উল্লেখ করেন। তার ওই বক্তব্যে সেখানে উপস্থিত অনেকেই বিস্ট্মিত হয়েছিলেন।
বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মনতেজার রহমান মন্টু বলেন, আসামি হাতেনাতে গ্রেফতার হলে ১৫ দিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র দাখিলের বিধান রয়েছে। এর অন্যথা হলে ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে আইনের সেই বিধান যথাযথ প্রতিফলিত হয়নি। মামলার তদারকি কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, মামলার তদন্ত নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। পুলিশ শুরু থেকেই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে আসছে। কিছু প্রক্রিয়ার কারণে একটু বিলম্ব হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার কিংবা বুধবারের মধ্যেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।