এবারও হাইকোর্টে মিরুর জামিন হয়নি

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭      

সমকাল প্রতিবেদক


সমকালের শাহজাদপুরের প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত মেয়র হালিমুল হক মিরুর হাইকোর্টে জামিন মেলেনি। পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি রাজিক আল-জলিলের সমল্প্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানির পর গতকাল রোববার আবেদন দুটি দৈনন্দিন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। এর ফলে মেয়র মিরুকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। এর আগেও গত ২৪ মে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ
মিরুর জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিলেন। বেঞ্চের সহকারী অ্যাটর্নি
জেনারেল বশির আহমেদ সমকালকে জানান, তিন দিনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রোববার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। আদালত আজ (রোববার) আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
আদালতে আসামি মিরুর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, শ. ম. রেজাউল করিম ও আবদুল আলিম মিয়া জুয়েল। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, কাজী মো. মাহমুদুল করিম রতন ও শফিকুজ্জামান রানা।
গতকাল বিচারক এ মামলায় আসামিকে জামিন দেবেন না মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেন। এ পর্যায়ে উপস্থিত আসামিপক্ষের আইনজীবী শ. ম. রেজাউল করিম আবেদনটি খারিজ না করে কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর মামলাটি তালিকা থেকে বাদ দেন আদালত। তবে অন্য আদালতে ফের এ জামিন আবেদনের শুনানি করা যাবে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৌর মেয়রের দুই ভাই মিন্টু ও পিন্টুর সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ের গ গোল হয়। এরপর বিজয়কে তুলে নিয়ে মেয়রের বাড়িতে আটকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এ নিয়ে মেয়র মিরু, মিন্টু, পিন্টু, নাছিরসহ মেয়রের সহযোগীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আরেকটি পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন, খবর সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন বগুড়া থেকে ঢাকায় আনার পথে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নূরুম্নাহার বাদী হয়ে মেয়র মিরু ও তার সহোদর মিন্টু এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নাছিরসহ জ্ঞাত ১৮ এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় ২২ জনসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাে র তিন মাস পর গত ২ মে শিমুল হত্যা মামলার চার্জশিট দেয় পুলিশ। চার্জশিটে বলা হয়, মেয়র মিরুর গুলিতেই শিমুলের মৃতু্য হয়েছে। হত্যায় মেয়র মিরুর লাইসেন্স করা শটগান ছাড়াও তার ভাই হাবিবুল হক মিন্টুর অবৈধ পাইপগান ব্যবহার করা হয়। মিরু ও মিন্টু দু'জনই ঘটনার দিন শিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।