স্ট্মার্টফোনেই এইচআইভি নির্ণয়

অন্য খবর

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭      

সমকাল ডেস্ক


হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস বা এইচআইভি নিয়ে পৃথিবীজোড়া আতঙ্কের শেষ নেই। অনিরাপদ যৌনতা ছাড়াও কে যে কখন কীভাবে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হবে, তা নিয়ে রয়েছে আতঙ্ক। সামাজিকভাবে ছোট হওয়া বা লজ্জার কারণে অনেকেই এইচআইভি পরীক্ষা করাতে চান না। আক্রান্ত অনেকেই হয়তো নিজের অজান্তে ভাইরাসটি অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। তবে এবার ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছেন এমন এক প্রযুক্তি, যা ব্যবহারে ঘরে বসেই স্ট্মার্টফোনে যে কেউ মাত্র ১০ সেকেন্ডেই রক্তে এইচআইভি আছে কি-না তা পরীক্ষা করে নিতে পারবেন।
বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যের সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিন্স ইমেরি বলেন, প্রচলিত স্ট্মার্টফোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেই মাত্র ১০ সেকেন্ডে এইচআইভি পরীক্ষার পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন তারা। অথচ বর্তমানে এইচআইভি পরীক্ষা করতে কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। স্ট্মার্টফোনের সাহায্যে যে পদ্ধতিতে এইচআইভি পরীক্ষা করা হবে, আশা করা যায় ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে জিকা, ইবোলার মতো ভাইরাসের পরীক্ষাও করা যাবে।
স্ট্মার্টফোনের সাহায্যে এইচআইভি নির্ণয়ের পুরো প্রক্রিয়াটির বৈজ্ঞানিক নাম সারফেস অ্যাকোস্টিক ওয়েভ (এসএড্িব্নউ)। যা মূলত মাইক্রোইলেক্ট্রনিক যৌগ দিয়ে তৈরি বায়োচিপের মাধ্যমে করা হয়। এই বায়োচিপটিই ভরা থাকবে স্ট্মার্টফোনে।
\হএটি দেখতে অনেকটা ইউএসবি ড্রাইভের মতো। এতে রক্ত পরীক্ষার জন্য ইউএসবি ড্রাইভের স্টিকের ওপর একটি জায়গা চিহ্নিত করা থাকবে। সঙ্গে থাকবে একটি কন্ট্রোল বক্স যা সিগন্যালের মাধ্যমে পরীক্ষার ফলাফল নির্দেশ করবে।
বিজ্ঞানীরা আরও জানান, এইচআইভি পরীক্ষার জন্য ইউএসবি ড্রাইভের স্টিকের ওপর এক ধরনের এসিড লাগানো থাকবে। পরীক্ষার সময় তাতে খুব সামান্য পরিমাণ রক্ত রাখতে হবে। রক্তে এইচআইভি থাকলে বা তা মাত্রাধিক হলে এসিডের রঙ ও গুণাগুণ বদলে যাবে। এভাবে এসিড ও রক্তের রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে যে শক্তি উৎপন্ন হবে, তার একটি অংশ রূপান্তরিত হবে বিদ্যুৎশক্তিতে। ফলে এর মাধ্যমে সৃষ্টি হবে ইলেকট্রনিক সিগন্যাল। ইউএসবি ড্রাইভের স্টিকের মাধ্যমে সেই সিগন্যাল স্মার্টফোনের স্ক্রিনে পরীক্ষার ফল ফুটিয়ে তুলবে। এ পদ্ধতিতে এইচআইভি পরীক্ষায় সফলতার হার মাত্রা ৯৫ শতাংশ। খবর মেডিকেল প্রেস ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।