সাহসী পপি

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭      

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি


দীর্ঘদিন ধরে দুটি স্কুলের ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে আসছিল এক বখাটে। পুলিশ তাকে ধরতে ১৫ দিন চেষ্টা চালিয়ে যখন বিফল, সেখানে স্কুলের এক ছাত্রীর জালেই ধরা পড়ল ওই বখাটে। স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার মধ্যে ওই ছাত্রীকে দেখে অশ্নীল অঙ্গভঙ্গি ও হয়রানি করার চেষ্টা করে সে। এ সময় সাহসিকতার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেন নামের ওই বখাটেকে জাপটে ধরে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উত্তম-মধ্যম দেয় বখাটেকে। পরে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
জানা গেছে, উজানগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী পপি খাতুন। প্রতিদিনের মতো স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিল সে। নিজের গ্রাম বাখইল যাওয়ার সময় রাস্তার মধ্যে তাকে গতিরোধ করে বখাটে সাদ্দাম। আগে থেকেই ওই বখাটেকে চিনত সে। তাকে হয়রানির চেষ্টা করলে জাপটে ধরে লোকজন ডাকাডাকি শুরু করে। এ সময় সাদ্দাম পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কিল-ঘুষি মারলেও ছাড়েনি। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সাদ্দামকে ধরে মারধর করে। পপি সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বাখইল গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, সাদ্দামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার এলঙ্গী গ্রামে। উজানগ্রামে বিয়ে করে ঘরজামাই থাকত সে। ঝাউদিয়া ও উজানগ্রাম পাশাপাশি ইউনিয়ন। দুটি এলাকার
স্কুলের মেয়েদের প্রতিদিন হয়রানি করে আসছিল সাদ্দাম। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষক ও ছাত্রীরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করে।
পপি বলে, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ দেখি সাদ্দাম রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে। সে আমাকে দেখে অশ্নীল ভাষা বলতে থাকে। আমাকে হয়রানির চেষ্টা করে। এরপর আমি একটু সরে গিয়ে দৌড়ে এসে সাদ্দামকে ধরে ফেলি। প্রতিটি মেয়েকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বখাটেদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পপি।
ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার রায় জানান, পাশের গ্রামের বখাটে যুবক স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ছাত্রীদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিল। পুলিশ তাকে ধরার চেষ্টা করছিল।
ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ জানান, পুলিশ ওই বখাটেকে ধরার চেষ্টা করছিল। রাস্তায় এক ছাত্রীকে হয়রানির চেষ্টা করলে সে জাপটে ধরে ওই বখাটেকে গ্রামবাসীর হাতে তুলে দেয়।
এদিকে ছাত্রীদের হয়রানির অপরাধে বখাটে সাদ্দামকে ৬ মাসের জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবাদত হোসেন।
ইবাদত হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনা অন্য কেউ ঘটালে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।