আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন টকশো, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞজনের মতামত থেকে ই-কমার্স খাতের বর্তমান দৈন্য-দুরাশা এবং উত্তরায়ণের পথ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। সম্ভাবনাময় এ খাত ই-কমার্সকে নিরাপদ ও টেকসই বাণিজ্যক্ষেত্র রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞজনের মতামতকে রোল মডেল ধরে সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তবধর্মী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

সরকারকে প্রথমেই প্রতারণাকারী উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানকে কঠোর আইনি শাস্তি প্রদান করে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও আইনের প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে। এখানে আরও কিছু বিষয় স্পষ্ট করা দরকার। ন্যায্য লাভসহ গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন, বিক্রেতার সততা, মূল্যবোধ তৈরি, উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রতারণা না করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। জনগণকে ই-কমার্স থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কেউ যাতে লোভনীয়, চটকদার ভুয়া অফারে পণ্য কিনে প্রতারিত না হয়, সে জন্য আইনি সংস্থা ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতারক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহ না করে ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করে ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত একজন ক্রেতার পরিশোধকৃত পণ্যের অর্থ দিয়ে অন্য একজন ক্রেতার পণ্যের মূল্য পরিশোধের কৌশল অনুসরণ করে, যা কখনও গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি গ্রাহকদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের অস্বচ্ছতা, প্রতারণা ও অসততার দিকটি উন্মোচিত করে। ই-কমার্স যেহেতু সততা, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও আস্থার ওপর অধিকাংশ নির্ভরশীল; যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করছে তাদের সরকার কর্তৃক লোন, অনুদান কিংবা সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

ই-কমার্স খাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতার চর্চা, কম সময়ে অধিক মুনাফা লাভের চেষ্টা, উৎপাদন খরচের চেয়েও কম মূল্যে পণ্য কেনার মানসিকতা, ভুঁইফোঁড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, গ্রুপের দাপট নিরাপদ বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রাচীন বাংলার বাণিজ্য পরিস্থিতি থেকে শুরু করে বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠার পেছনে বণিক বা ব্যবসায়ীদের যে সুনাম রয়েছে, তা অক্ষুণ্ণ রেখেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিক নীতিমালার ভেতর আনতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেটনির্ভর ব্যবসাগুলোকে স্বচ্ছতার ভেতর আনতে হলে সরকারকে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন লোকবল নিয়োগ করতে হবে এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির মজুদ রাখতে হবে। ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ সংগ্রহ ও সে অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিপুল সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাতকে কোনোভাবেই ডুবন্ত জাহাজ হতে দেওয়া যাবে না। এমনকি প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসকে কোনো রকম হত্যা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। গ্রাহকদের অর্থ লেনদেন ও পণ্য প্রাপ্তির নিরাপত্তা জোরদার করে ই-কমার্সের সংকট দূর করতে হবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন